বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি টাকা হান্নান মাসউদের, পেশা ব্যবসা

আবদুল হান্নান মাসউদ (বামে) ও তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মো. আবদুল মালেক (ডানে)ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি টাকা রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের। বাৎসরিক আয়ও বাবার চেয়ে তিন গুণের বেশি। বাবার আয়ের খাত কৃষি হলেও ছেলের আয়ের খাত দেখানো হয়েছে ব্যবসা।

হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে হঠাৎ আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে দেওয়া দুজনের হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হান্নান মাসউদের কাছে বর্তমানে টাকা রয়েছে ৩৫ লাখ আর তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে টাকা রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার। সে হিসেবে হান্নান মাসউদের কাছে বাবার চেয়ে ১৮ গুণের চেয়ে বেশি টাকা রয়েছে।

পুরোনো টিনশেড বাড়ি ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন আধপাকা বাড়ি। এটিতেই থাকেন হান্নান মাসউদ ও তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়ায়
ছবি: প্রথম আলো

হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজেকে আলিম (উচ্চমাধ্যমিক সমমান) পাস উল্লেখ করে ঢাকায় ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক উল্লেখ বলে করেছেন। এতে তাঁর বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা রয়েছে ১ হাজার ৫৫ টাকা। এ ছাড়া বন্ড, ঋণপত্র ইত্যাদি খাতে এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু আট লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এক লাখ টাকা ও আসবাব রয়েছে এক লাখ টাকা।

অন্যদিকে বাবা আমিরুল ইসলাম আবদুল মালেকের ইলেকট্রিক পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার টাকা ও আসবাব দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকার।

উল্লেখ্য হান্নান মাসউদের বয়স ২৫ বছর। আর তাঁর বাবার বয়স ৬৫। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী বাবা ছেলে দুজনই থাকেন হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের উত্তর সাগরিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে। বাড়িটিতে টিনশেডের ঘর ভেঙে একটি আধপাকা ঘর তৈরি করা হচ্ছে। বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি পুকুর রয়েছে।

আরও পড়ুন