পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জোটের প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নূর)। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক অভিযোগ করেন, বিএনপির সঙ্গে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে পটুয়াখালী-৩ আসনটি তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বিএনপিসহ গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তাঁকে সমর্থন করছে। কিন্তু উপজেলা বিএনপির আরেকটি অংশ হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি ও তাঁর নেতা-কর্মীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে হামলা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
নুরুল হক বলেন, হাসান মামুন উদ্দেশ্যমূলকভাবে আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে ও রাস্তাঘাটে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গত রোববার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া শ্রমিক অধিকারের নেতা মো. রাকিবকে মারধর করে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। পরদিন গতকাল সোমবার ট্রাক প্রতীকের কর্মী মোহাম্মদ চাঁন মিয়াকে টাকা নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। এর আগে চরকপালভেড়া এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
নুরুল হক আরও বলেন, সোমবার রাতে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের প্রচারণায় গেলে হাসান মামুনের সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে স্থানীয় ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর খবর পেয়ে হামলাকারীরা নিজেদের কার্যালয় ভাঙচুর করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই যদি আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর এভাবে হামলা হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছি। অথচ বর্তমানে তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন—এমন একজনের পক্ষ থেকে এত সহিংসতা হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, টানা তিন দিনের এসব ঘটনায় তিনি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। প্রশাসন তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে।
তবে নুরুল হকের এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘চরবোরহানে আমার অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, আমার লোকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নূরের বাকি অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন।’