থানা থেকে হারুন গাজী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে রান্নাঘর থেকে ওই নারী মরিচ-পেঁয়াজ ও তেল চুরি করেছেন। তাঁকে হাতেনাতে ধরে বেঁধে রাখা হয়। বাড়ির নারীরা তাঁর চুল কেটে দিয়েছেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে আমাদের কয়েকজনকে থানায় নিয়ে এসেছে।’

নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী তাঁর নাতনির জন্য তেল পড়া আনতে রোববার রাতে পাশের গ্রামে আহসাননগরে হারুন গাজীর বাড়িতে যান। এ সময় ওই বাড়ির আলামিন ও রিয়াদ হোসেন তাঁকে চোর বলে আটক করেন। এ সময় হারুন গাজী ও তাঁর স্ত্রী ওই নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। লাঠিসোঁটা দিয়ে ওই নারীকে বেদম মারপিট করা হয়। তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।

পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত নারী সাংবাদিকদের বলেন, রান্নাঘর থেকে মরিচ-পেঁয়াজ চুরি অপবাদ দিয়ে আহসাননগর গ্রামের হারুন গাজী ও তাঁর স্ত্রী লাবনী বেগম, আলামিন ও তাঁর স্ত্রী কেয়া খাতুনসহ কয়েকজন মিলে তাঁকে বেঁধে রেখে রাতভর নির্যাতন চালান। পরে ওই বাড়ির জাহিদুলের স্ত্রীর সহযোগিতায় তাঁর মাথার চুল কেটে দেন তাঁরা। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চূড়ামনকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করতে পারতেন। কিন্তু চুরির অভিযোগে একজন নারীর সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা জঘন্য অপরাধ।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল আলম চৌধুরী আজ রাত সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাত-আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।