মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি ১১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মুজিবুর রহমান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আরেফিন সুমন ও পোলিং কর্মকর্তা আমান উল্লাহ প্রধান শাহীন, মো. জাকারিয়া ইসলাম কাঞ্চন ও মাহবুবুর রহমান তুহিন।
যাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাঁরা হলেন সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী, সহসভাপতি পদে মো. ফিরোজ খান ও লাভলু মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান সবুজ ও আবদুল হালিম সরদার, সহসাধারণ সম্পাদক পদে মো. নয়ন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. মোস্তফা, দপ্তর সম্পাদক পদে প্রিন্স ফয়সাল আহমেদ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে মৌসুমী আক্তার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আবু হানিফ হিরু মোল্লা, কার্যকরী সদস্য পদে মো. শাহ আলী দেওয়ান নিশান।
আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো প্যানেল ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের প্যানেলের হয়ে নির্বাচন করা আইনজীবীরা সাধারণ আইনজীবীর ব্যানারে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। ১১ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে বিএনপিপন্থী প্রার্থীরা।
প্রার্থিতা বাতিলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৫ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। পরে ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে আইন পাস করা হয়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচর করে ১৩ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ জেলা বারের প্রায় ৭৫ জন আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার নিহত ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার থেকেও একটি আবেদন দেওয়া হয়। দরখাস্ত পর্যালোচনা করে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের গেজেট, বর্তমান সংসদে প্রণীত আইন পর্যালোচনা করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন ওই প্রার্থীদের নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পায়। যার কারণে দেশের সংশোধিত সব আইনের ওপর ভিত্তি করে ১১ জন প্রার্থীকে মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন ২০২৬-২৭–এ অযোগ্য ঘোষণা করে, প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।’
ওই ১১ জন প্রার্থী ছাড়া অবশিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে ২৩ এপ্রিল যথানিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগপন্থী সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে একাধিক ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী ২ জন। তাঁদের একজন আবদুল হালিম সরদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগে আমার কোনো পদবি নেই। কেউ দেখাতেও পারবে না। শুধু ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্যানেলে নির্বাচন করে যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে এসেছিলাম। শুরু থেকে আমাদের নির্বাচন থেকে সরাতে বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত চক্রান্ত করে প্রার্থিতাই বাতিল করে দিল।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মুজিবুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন।