চালডাল ডটকমের যশোর অফিসের ৬০০ কর্মীর বেতন বন্ধ তিন মাস
আকাশ আকবার চালডাল ডটকমের যশোর অফিসে চার বছর ধরে প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট পদে চাকরি করছেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তিনি। শুধু আকাশ নন, তাঁর মতো এ অফিসে কর্মরত অন্তত ৬০০ কর্মীর তিন থেকে চার মাস ধরে বেতন বন্ধ আছে।
বেতন না পেয়ে কর্মীরা ক্ষুব্ধ। আজ সোমবার সকাল থেকে কর্মীরা কার্যালয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বিকেলের পালার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নোটিশ দিয়েছে। এতে কর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
২০১৯ সালে চালডাল ডটকম যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ১২ ও ১৪ তলার ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ নিয়ে ক্রেতা সেবার জন্য ‘কল সেন্টার’ চালু করে। যশোরের এ অফিসে অন্তত ৬০০ কর্মী কর্মরত। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে কর্মীদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেতন দেওয়ার দাবিতে কর্মীরা আজ সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রতিষ্ঠানের কর্মী আকাশ আকবার বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইলেই কোম্পানি থেকে আশা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে আমরা যারা এই অফিসে কাজ করছি, তাদের পকেটের টাকা খরচ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
এ অফিসের বেশির ভাগ কর্মী অনার্স (স্নাতক) পর্যায়ের শিক্ষার্থী। এখানকার চাকরির বেতনের টাকা দিয়ে তাঁদের লেখাপড়া চালাতে হয়। বেতন বন্ধ থাকায় অনেকে তাঁদের মাসের খরচ চালাতে পারছেন না। এ প্রতিষ্ঠানের ম্যাপিং অ্যাসোসিয়েট জি এম দুর্লভ হাসান বেতন না পেয়ে এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
জি এম দুর্লভ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেতন দেওয়া হচ্ছে না বলে আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের কাছে আমার বকেয়া রয়েছে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। আমার মতো অন্তত ৬০০ কর্মী ভুক্তভোগী। কাউকেই বেতন দেওয়া হচ্ছে না।’
কর্মীদের বেতন কেন দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে চালডাল ডটকম যশোর অফিসের ফোকাল পারসন মিঠুন বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ আসেনি। এ জন্য আমরা কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছি না। কর্মীদের হট্টগোলের কারণে নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’