শরীরে ক্ষতচিহ্ন, দড়ি বাঁধা লেজ, সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন চর গঙ্গামতি এলাকা থেকে প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে জোয়ারের পানিতে মৃত ডলফিনটি ভেসে এসে সৈকতে আটকা পড়ে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আবদুল জলিল মৃত ডলফিনটি দেখতে পান। পরে তিনি কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) ও বন বিভাগের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে বন বিভাগ ডলফিনটি উদ্ধার করে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আবদুল জলিল বলেন, দীর্ঘ সময় মৃত ডলফিনটি পানিতে থাকায় এটির শরীরের বেশির ভাগ চামড়া উঠে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ডলফিনটির লেজে দড়ি বাঁধা ছিল।
কুয়াকাটায় ডলফিন নিয়ে কাজ করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি ও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি প্রায় ৬০ ফুট লম্বা চারটি তিমির মরদেহও ভেসে এসেছে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।’
ঢাকার শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী ডলফিনটির ছবি দেখে বলেন, এটি বটলনোজ প্রজাতির। এদের রং সাধারণত ধূসর হয়, পিঠের দিকটা গাঢ় এবং পেটের দিকটা হালকা রঙের। মুখের অংশ একটু খাটো ও বোতলের মতো সামনের দিকে প্রসারিত থাকে। নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় এদের বেশি দেখা যায়।
মীর মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ট্রলার ও জেলেদের জালে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক সময় ডলফিন ও কচ্ছপ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ছাড়া নৌযানের আঘাত, শিল্পবর্জ্য, তেল ও রাসায়নিক দূষণও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।