পাবনায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
পাবনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান এই আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল্লাহর বাড়ি পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পশ্চিম জামুয়া গ্রামে। তিনি ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে স্ত্রী রুমানা পারভীনকে গুলি করে হত্যা করেন। রুমানা একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই আবদুল্লাহ তাঁর স্ত্রী রুমানার পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল দাবি করতে থাকেন। রুমানার পরিবার যৌতুকের এই দাবি পূরণ করতে পারেনি। এর পর থেকে আবদুল্লাহ রুমানাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে আবদুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে রুমানাকে মারপিট করেন। সকালের মধ্যেই যৌতুকের টাকা এনে দিতে বলেন। এতে রুমানা রাজি না হলে আবদুল্লাহ নিজের বাবার ঘর থেকে বন্দুক এনে রুমানাকে গুলি করেন। এতে রুমানা গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরের দিন রুমানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আবদুল্লাহসহ চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলায় চারজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার আবদুর রকিব রায়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত বাকি তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আবদুল্লাহ আদালতেই উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।