ঘটনা গোপন করতে সহযোগীরা রিপনকে গলা কেটে হত্যা করে : পুলিশ

লাশপ্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রাজমিস্ত্রি রিপন মিয়াকে (২৫) গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা গোপন করতে রিপনের সহযোগীরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে।

ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ গতকাল রোববার সকালে মো. রাকিব মিয়া (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আজ সোমবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিহত রিপন মিয়া উপজেলার কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে স্থানীয়ভাবে কাজ করছিলেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তার রাকিবের বাড়ি উপজেলার বিদ্যাবল্লব গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বিদ্যাবল্লভ বাজারের পেছনে একটি খেতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে রিপন মিয়ার দুই হাত ঝলসানো ও গলাকাটা লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে রিপনের পরিবারের লোকজন লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পরের দিন গতকাল সকালে নিহত ব্যক্তির বড় ভাই মো. সুজন মিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিপনের সহযোগী রাকিব মিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ওই দিন সকালে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে। বিকেলে কেন্দুয়া আমলি আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের কাছে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে রাকিব বলেছেন যে গত শুক্রবার রাতে রিপন মিয়াসহ তাঁদের কয়েকজন সহযোগী ওই ট্রান্সফরমার চুরি করতে যান। এ সময় রিপন খুঁটির ওপর উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর দুই হাত ঝলসে যায় এবং তিনি নিচে পড়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় তাঁর সহযোগীরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে।

কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোককে মুঠোফোনে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জবানবন্দি শেষে গ্রেপ্তার রাকিবকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।