নওগাঁয় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁ জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা বিএনপির কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার জন্য এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করেছে।

গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ শহরের কেডির মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা শেষে গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার মাখনা কমলগোটা গ্রামে প্রকাশ্যে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান। পরবর্তী সময় সেটি সংঘর্ষে রূপ নিলে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।

আবু বক্কর সিদ্দিক আরও বলেন, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই নিরীহ মানুষ এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের (বিএনপির প্রার্থী) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করছে এবং সংঘর্ষের ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আহত বিএনপির নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েমের সংবাদ সম্মেলন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড়ে নওগাঁ পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে
ছবি: প্রথম আলো

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বিএনপির লোকজন জামায়াতের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের মিথ্যাচারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এর আগে গতকাল রাত ১১টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গতকাল বেলা দুইটার দিকে গণসংযোগ শেষে গোপাই মাখনা গ্রামে এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নেই। হঠাৎ তিনটার দিকে অনেক চিৎকার শুনতে পাই। পরে আমি জানতে পারি সেখানে কয়েকজন ছেলে এসে জোরপূর্বক আমি যে বাড়িতে আছি, সেটার ছবি তুলছিল এবং বাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। আমার কর্মীরা তখন তাদেরকে বাধা দেয়। তখন তারা নিজেদের বলে আমরা জামায়াতের কর্মী। ওখানকার স্থানীয় লোকজন তখন বলে, “আপনাদেরকে তো আমরা জামায়াতের কোনো প্রোগ্রামে কোনো দিন দেখি নাই। আপনারা তো এই পাড়ার কেউ না” এরপরই গন্ডগোল শুরু হয়।’

জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সদর মডেল থানার পুলিশ এবং ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানাই। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব মাত্র সাত কিলোমিটার হলেও পুলিশ আসতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি করে। পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ প্রণয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। আমি ওপর থেকে দেখি পুলিশের হাতের এসএস পাইপ কেড়ে নিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করছে। পুলিশ তখন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। মুস্তাফিজ নামে আমাদের এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর মাথায় আঘাত করে। তার কানে লেগে কানের পর্দা ফেটে গেছে, বর্তমানে সে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।’

আবু সাদাত মো. সায়েম অভিযোগ করেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার আমিরে জামায়াত নওগাঁয় আসবেন। আমিরে জামায়াতের সমাবেশ যেন সফল না হয়, সে উদ্দেশ্যে তাঁরা হামলা চালিয়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় গ্রুপ করে টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে রেখেছে যেন প্রোগ্রামে লোকজন উপস্থিত না হতে পারেন।