তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. সামসুজ্জামান আজ সোমবার মুঠোফোনে বলেন, ‘লোডশেডিং না দিয়ে করব কী? মেইন গ্রিড থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিপরীতে ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দিচ্ছে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ছয়টি ফিডার ভাগ করে চালানো হচ্ছে। তাই সারা দেশের মতো তারাগঞ্জেও লোডশেডিং চলছে।’

২০১৭ সালে রংপুরের তারাগঞ্জের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু চলতি মাসের শুরু থেকে সারা দেশের মতো ব্যাপক লোডশেডিং চলছে তারাগঞ্জেও। প্রতিদিন এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শিডিউল থাকলেও সারা দিনে গ্রাহকেরা ৯-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। দাবদাহে নাকাল মানুষ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এর তারাগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় মোট গ্রাহকসংখ্যা ৭৯ হাজার ২৫০ জন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রামাণিকপাড়া গ্রামের পাশে গড়ে উঠেছে ওকড়াবাড়ির হাট। আজ সকালে হাটে কথা হয় মুদিদোকানি সাকাদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একে তো রাইত আটটার পর দোকান বন্ধ। তার ওপর সারা দিন কারেন্ট নাই। গরমতে ব্যবসা করিবার পাওছি না। বিল তো হামরা ঠিকই দেই। কিন্তু কারেন্ট ঠিকমতো পাই না কেনে? ব্যবসা না হইলে চলমো কেমন করি!’

গ্রামের কয়েকজন তরুণের সঙ্গে প্রামাণিকপাড়া মোড়ে গল্প করছিলেন ওই গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ কপিল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষ হওচে ব্রয়লার মুরগির মতন। কারেন্ট ছাড়া নড়াচড়া কইরার পায় না। ছাওয়া-পোয়াগুলা কারেন্ট ছাড়া লেখাপড়াও করে না। কারেন্ট গেইলে যে যন্ত্রণা হয়, তাক তোমাক বুঝবার পাইম না।’

ওই গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা হাসু সরকার বলেন, ‘এ গ্রামে ১০-১২টি খামার গড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এবার প্রত্যেক মুরগির খামারিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক খামারি এখনো মুরগি উৎপাদন করার সহস পাচ্ছেন না। অধিকাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এবার বিদ্যুতের যাওয়া–আসা খেলায় আমার লাখ টাকা লোকসান হয়েছে খামারে।’

ইকরচালী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী বলেন, এখন শ্রাবণ মাস। বৃষ্টি হওয়ার কথা। উল্টো প্রখর দাবদাহ চলছে। গরমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। বিদ্যুৎ থাকলে অন্তত ফ্যানের বাতাসে একটু স্বস্তিতে পাঠ কার্যক্রম চলতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন