ওই অটোরিকশায় ছিলেন সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম ও সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রমজান আলী। অটোরিকশায় থাকা অন্য তিনজন বিএনপির কর্মী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা জানান, বাস বন্ধ থাকায় সকাল ছয়টার দিকে তাঁরা অটোরিকশা সাদুল্যাপুর থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মডার্ন মোড়ে আমাদের অটোরিকশাটি থামিয়ে দেয় পুলিশ।  পরে বিএনপির কর্মী পরিচয় পাওয়ার পর আমাদের আর সমাবেশে যেতে দিল না।’

তবে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিরামপুর থেকে আসা প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে মডার্ন মোড় দিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ওই বহর আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সকাল ১০টা পর্যন্ত মডার্ন মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশি তল্লাশি শুরু পর থেকে মর্ডান মোড়ে যান চলাচলের সংখ্যা কমে গেছে।

মডার্ন মোড় টহলে থাকা রংপুর মহানগরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ কাউকে বাধা দিচ্ছে না। তবে সন্দেহ হলে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।

বাস ধর্মঘটে যাত্রীরা বিপাকে

মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রংপুরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে অটোরিকশাসহ অন্য ছোট যানবাহনও সহসা মিলছে না। এতে সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। সড়কে অল্প কিছু অটোরিকশা ও ভ্যান চলতে দেখা গেলেও বাস বন্ধের সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

পাগলাপীর থেকে পীরগঞ্জে যাবেন আবদুল আউয়াল (৪৫)। নগরের মডার্ন মোড়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পীরগঞ্জে যাব, কিন্তু বাস তো চলছে না। লেগুনা আছে। তবে লেগুনায় ৭০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১০০ টাকা।’

করিমন নেছা, ইদ্রিস আলী, সমির উদ্দিনসহ অন্তত ১০ যাত্রীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সবাই বলেন, গতকাল থেকেই সড়কে বাস নেই। সড়কে অল্প কিছু অটোরিকশা ও লেগুনা চলছে। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন চালকেরা।