খোকসায় দেড় মিনিটের ঝড়ে তিন গ্রাম তছনছ

ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপকগ্রামেছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ে তিনটি গ্রামের কয়েক শ ঘরবাড়ি, গাছপালা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গোপকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের শতবর্ষী বটগাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে বিদ্যালয়ের প্রাচীর। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সন্তোষপুর, গোপকগ্রাম ২ ও গোপকগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়। এরপর শুরু হয় বাতাস ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে প্রবল বেগ ঝড় শুরু হয়। প্রায় দেড় মিনিটের ঝড়ে অনেক ছোট-বড় গাছ উপড়ে পড়ে তিনটি গ্রামের কয়েক শ ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে যায়।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে গোপকগ্রাম ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম। গ্রামের অসংখ্য ছোট–বড় গাছ উপড়ে গেছে। ভেঙে গেছে বসতঘর, রান্নাঘর, চালকল, তাঁতযন্ত্র, বিদ্যালয়ের প্রাচীর। এলাকাবাসীর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ।

এ সময় স্থানীয় সত্তরোর্ধ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘১৯৮৪ সালের পর এমন ঝড় আর দেখিনি। মুহূর্তেই সবকিছু ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। কমবেশি সব বাড়িতেই ক্ষতি হয়েছে।’

সন্তোষপুর গ্রামের তাঁতি ফরিদ শেখ জানান, ঝড়ে তাঁর তাঁতঘরের ওপর বড় মেহগনিগাছ উপড়ে পড়েছে। এতে একটি তাঁতযন্ত্র ও আরও কিছু জিনিসপত্র ভেঙে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে কিছুটা ক্ষতিপূরণ হতো।

পুরোনো একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে বিদ্যালয়ের দেয়াল। মঙ্গলবার বিকেলে খোকসা উপজেলার গোপকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

গোপকগ্রাম ২ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর মধু শেখ বলেন, ‘নদী থেকে কালো ধোঁয়ার মতো বাতাস পাক মারতে মারতে আসে। এরপর ১০-১৫ মিনিট বজ্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যেই দুইটা মেহগনি গাছ উপড়ে পড়ে আমার টিনের ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।’

গোপকগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোরবান আলীর স্ত্রী চায়না খাতুন বলেন, ‘স্বামী ভবঘুরে। দুইটি বাচ্চা আছে। ঝড়ে বসতঘর ও টয়লেট ভেঙে গেছে। এখন থাকব কনে? আমার তো সারার (মেরামত করা) টাকা নেই। সরকার যদি একটু দেখতনে, তয় বাঁচতাম।’

গোপকগ্রাম স্কুলপাড়ার জাহেদ বলেন, ঝড়ে তছনছ তিন-চারটা গ্রামের ঘরবাড়ি। শত বছরের বেশি বটগাছটিও উপড়ে গেছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের।

ঝড়ে তিনটি গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল আলিম সরদার। তিনি বলেন, ‘মুহূর্তেই কয়েক শ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে, তাঁতের ক্ষতি হয়েছে। ইউএনও স্যারকে আর্থিক সাহায্যের জন্য জানিয়েছি।’

খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা শোনা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সহযোগিতা করা হবে।