মামুন আকন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের মো. আল আমিন আকনের ছেলে। বাবা-মায়ের তিন ছেলের মধ্যে মামুন বড়। অন্য দুই ছেলে একজন নবম শ্রেণিতে ও অন্যজন প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

জানতে চাইলে মামুন আকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দাদার রেখে যাওয়া দেড় কাঠা জমির ওপর নির্মিত বসতঘরটি ছাড়া আমাদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। ওই জমিতে চাচাদেরও ভাগ আছে। বাবা দিনমজুরের কাজ করে যা পান, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালান। আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছিলেন না তিনি। এ কারণে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। এভাবে কষ্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এখন ভর্তির খরচ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

দরিদ্র হওয়ায় কেউ টাকা ধার দিতে চান না জানিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মামুন আকনের বাবা আল আমিন আকন। তিনি বলেন, ‘শুনেছি মামুনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা আমার মতো দরিদ্র মানুষের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।’

২০১৯ সালে বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউশন থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক পাস করেন মামুন। ২০২১ সালে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও জিপিএ-৫ পান তিনি।

বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মামুন আকন মেধাবী ছাত্র। তাঁর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। মামুন আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় আমরা তাঁকে সাধ্যমতো সহায়তা করেছি। এখন সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে ভর্তির টাকা ও ঢাকায় গিয়ে থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ওর পরিবার।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন