যুবদল নেতার মামলায় জামায়াতের ২৫ নেতা–কর্মী কারাগারে

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতা-কর্মীকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেছবি: সংগৃহীত

যুবদল নেতার দায়ের করা একটি মামলায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ দলটির ২৫ নেতা–কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিনের আবেদন করলে বিচারক এস এম রাজিবুল হাসান জামিন নামঞ্জুর করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হাসেম ও জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।

আমরা আশা করেছিলাম বিচারক তাঁদের জামিন দেবেন, কিন্তু দেননি। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং আশা করি, আদালতের কাছে আমাদের নেতা–কর্মীরা ন্যায় বিচার পাবেন।
ছাদেক আহমেদ হারিছ, আমির, নেত্রকোনা জেলা জামায়াত

স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই দিন বেলা তিনটার দিকে আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ওমর শরীফের ওপর প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর লোকজন হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার পাঁচ দিন পর ওমর শরীফ বাদী হয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জয়নাল আবেদিনকে প্রধান আসামি করে দলটির ৩৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। এরপর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ দুপুরে ৩৩ জনের মধ্যে ২৫ জন জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আবার জামিনের আবেদন করেন। তখন বিচারক এস এম রাজিবুল হাসান তাঁদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

আদালতের এমন নির্দেশনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমেদ হারিছ। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বিচারক তাঁদের জামিন দেবেন, কিন্তু দেননি। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং আশা করি, আদালতের কাছে আমাদের নেতা–কর্মীরা ন্যায় বিচার পাবেন।’