বরিশালে বিএনপি নেতার মাদকবিরোধী অভিযান, কয়েকজনকে মারধর
বরিশাল নগরের আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল মাঠে তাঁর নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়। এরপর অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মনিরুজ্জামান খান ফারুক কয়েকজনকে চড়থাপ্পড় ও পাইপ দিয়ে মারছেন। তাঁর সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদুর রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ছিলেন। প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন তাঁরা। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি অভিযান চালাতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিএনপি নেতার অভিযান চালানোর বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। টিবি হাসপাতালের মাঠটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের উপদ্রব আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতালের মাঠটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। মাঠটির কাছেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় ও আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি।
আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, বিএনপি নেতাদের ওই অভিযানের বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। অভিযান চালানোর পর তাঁরা বিষয়টি শুনেছেন। পুলিশ মাঝেমধ্যে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান ফারুক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সমাজটাকে এভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দিতে পারি না। তাই এ অভিযান চালিয়েছি। চারটি ছেলেকে হাতেনাতে ধরে সামান্য মারধর করেছি এবং ওদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি। আমার এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না।’
পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে মনিরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ কি সঠিকভাবে কাজ করে? পুলিশ সঠিকভাবে কাজ করলে মাদকের ছড়াছড়ি কীভাবে হয়? তাই এখন সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে না পারলে আমাদের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, এ অভিযানের বিষয়ে আগে বা পরে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া কারও অভিযান চালানোর এখতিয়ার নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য আবু আল রায়হান। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা যা করেছেন, তা পুরোপুরি আইনবহির্ভূত।