মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় সওজের সার্ভেয়ারকে মারধর

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানের সময় সওজের সার্ভেয়ারকে মারধর করা হয়। আজ দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি এলাকায়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানের সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক সার্ভেয়ারকে মারধর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম। তিনি গাজীপুর সওজের সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। এর আগে আজ বেলা ১১টা থেকে ওই এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে জেলার সওজ বিভাগ। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার শরিফুল আলম।

গাজীপুর সওজের কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি এলাকার পলক সিএনজি পাম্পের পাশ থেকে উত্তর দিকে বাজারসহ মসজিদের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। এ সময় ওই বাজারের বেশ কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, ভবন না ভাঙার জন্য মালিকদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন সওজের দুই কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে সার্ভেয়ার রবিউলকে একা পেয়ে মারধর করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। রবিউলকে উদ্ধার করে সড়ক ও জনপথের ব্যবস্থাপনায় গাড়িতে করে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযান চলার সময় কোনো কোনো স্থাপনা বাদ দিয়ে ভাঙা হয়। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ হামলা চালানো হয়। সকাল থেকে অভিযানে বাজারের দুই শতাধিক স্থাপনা ভাঙা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, সড়ক বিভাগের কোনো অসাধু কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে কিছু অবৈধ স্থাপনাকে ভাঙচুর থেকে রক্ষা করা হয়েছে। এতে অন্য স্থাপনার মালিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালান।

জেলার সওজ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফায় মালিকদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ নোটিশে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সড়ক ও জনপথের জায়গায় থাকা সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তির পরও কোনো স্থাপনা সরানো হয়নি।

অভিযানস্থলে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘তারা হামলা চালাল কেন? প্রয়োজনে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারত, আমার কাছে সবাই সমান। এখানে পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। কারও কাছে থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’