দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সংগঠনকে গতিশীল করতে ১ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. নোমান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সাদমান সাকিব পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ১৯ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই পাঁচ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই আদেশ অমান্য করে ২০ জুলাই বোদা উপজেলা ছাত্রলীগ এবং ২৫ জুলাই দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করা হয়। তবে ওই সম্মেলন দুটিতে সাদমান সাকিব পাটোয়ারী উপস্থিত থাকলেও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. নোমান হাসান উপস্থিত ছিলেন না। ওই সম্মেলন দুটিতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম।

সম্মেলনে আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে রুবায়েদ হুসেনকে সভাপতি ও আনজাম পিয়ালকে সাধারণ সম্পাদক করে বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর শাহীনুর রহমানকে সভাপতি ও মোনায়েম প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে সাদমান সাকিব পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে সম্মেলন স্থগিত করে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে সম্মেলনের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। সম্মেলনে যোগ দিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম দাপ্তরিক কাজ রেখে জেলায় এসেছিলেন। রাজনীতি করতে হলে স্থানীয় রাজনীতির বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। সে কারণেই হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাদমান সাকিব পাটোয়ারী আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু ছাত্রলীগ করি, সে ক্ষেত্রে আমার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কেন্দ্র আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে আমার বক্তব্য তুলে ধরব। আশা করি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. নোমান হাসান বলেন, তাঁরা পাঁচ উপজেলায় সম্মেলনের আহ্বান করেছিলেন, সেখানে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলার যেসব নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন, তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দিয়েছিল। এমনকি সম্মেলনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছিল। ১৯ জুলাই জেলার সব উপজেলার সম্মেলন স্থগিত করে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপরও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে সাধারণ সম্পাদক এককভাবে ওই দুই উপজেলায় সম্মেলন করেন।

আবু মো. নোমান হাসান আরও বলেন, কেন্দ্র থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ওই সম্মেলনে যাননি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করায় সাধারণ সম্পাদককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে এসব সম্মেলনে গঠন করা কমিটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন