‘এইবার যে শীত পড়ছে, ঘর থাইকা বাইর অওন যায় না। শীতে খুব কষ্ট অইতাছে। আফনেরা যে কম্বল দিলাইন, এইডা দিয়া শীতে আরাম অইবো।’ কথাগুলো ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নাপ্তের আলগী গ্রামের বিধবা নূর জাহান বেগমের। সত্তরোর্ধ্ব এই নারীসহ গতকাল সোমবার গৌরীপুরে ২৩০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে।
বিকেল চারটার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদবিধৌত গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের নাপ্তের আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়। এখানে খোদাবক্সপুর, নাপ্তের আলগী, খেলার আলগী, ভাটিপাড়া, নাওভাঙ্গা গ্রামের নানা বয়সী নারী-পুরুষের হাতে কম্বল বিতরণ করেন প্রথম আলো বন্ধুসভা ময়মনসিংহের সদস্যরা। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেড।
হুইলচেয়ারে করে কম্বল নিতে আসেন ভাটিপাড়ার সুজন মিয়া (৪০)। একসময় বালুশ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও এখন জীবন চলে ভিক্ষাবৃত্তি করে। কম্বল হাতে সুজন মিয়া বলেন, ‘অ্যাকসিডেন্টের পর থাইক্যা পাঁচজনের সংসার লইয়া বিপদে আছি। ভিক্ষা কইরা খাওনের জোগান দেই। আমার কষ্টের সংসারে শীতে খুব কষ্ট অইতাছিন। কম্বলটা অনেক উপকার করব।’
শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তা অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ তহবিলে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্নজন দিয়েছেন ৮৮ হাজার টাকা। আর নগদ ৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।