চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে ৩৫০ ভরি সোনা ছিনতাই
চট্টগ্রামে মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক পুলিশ সদস্যের নাম সুমন চন্দ্র দাস। পুলিশ বলছে, তাঁর নেতৃত্বেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার অন্য পাঁচজন হলেন মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম, রবি কুমার, পান্না রানী দাস ও বিবেক বণিক। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের পাঁচলাইশ থানায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত রোববার ভোরে নগরের পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতি রোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে অটোরিকশায় থাকা তিনজনের কাছ থেকে ৩৫টি সোনার বার (ওজন প্রায় ৩৫০ ভরি) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পাঁচলাইশ থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার ভোরে নগরের হাজারী গলি এলাকার একটি সোনার দোকানের তিন কর্মচারী সোনা গলানোর জন্য ভাটিয়ারীর উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটি মুরাদপুর–অক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক গতি রোধ করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সোনার বারগুলো নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দোকানের কর্মচারী সুবজ দেবনাথ মামলা করেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে ধারাবাহিক অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২৯০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সুমন চন্দ্র দাস সাবেক পুলিশ সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই সোনার বারগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। সোনাগুলো হাজারী গলির এক ব্যবসায়ীর। ওই দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিক আগাম তথ্য দিয়ে ছিনতাইয়ে সহযোগিতা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুমন চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে নগরের চকবাজার থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক ব্যক্তিকে আটক করে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে এএসআই পদ থেকে নায়েক পদে নামানো হয়। ২০২০ সালে ছিনতাইয়ের সময় পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। জামিনে মুক্তির পরও তিনি অপরাধ থেকে সরে আসেননি। ২০২৩ সালে সোনার বার ছিনতাইয়ের আরেকটি ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।