মাদারীপুরে কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ২০টি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ
মাদারীপুরে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে উভয় পক্ষ অন্তত ২০টি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমিরাবাদ ইউআই স্কুলের পেছনে বলরাম মন্দির এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত শনিবার রাতেও শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় এই দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন।
এদিকে শহর ছাড়াও গতকাল রাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়ারচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই এলাকার কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিকের নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে তুষু খন্দকারের সঙ্গে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কে এম তোফাজ্জল হোসেন আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে গত রোববার পূর্ব আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও পরিবহনশ্রমিক কাওসার হোসেনসহ তাঁর স্ত্রীকে আটকে রেখে শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকার কয়েকজন কিশোর ও যুবক মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদসহ আশপাশ এলাকায় ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সদস্যরা বলরাম মন্দির এলাকায় জড়ো হয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ অন্তত ২০টি ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘মন্দিরের সামনে যখন একের পর এক বোমাবাজি হচ্ছিল, তখন আমরা সাধারণ মানুষ খুব ভয় পেয়ে যাই। বোমা ছাড়াও ওরা একে অপরকে ঘায়েল করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছিল। এক ঘণ্টা ধরে চলে তাদের এই যুদ্ধ। দিন দিন শহরে সাধারণ মানুষের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আসতেছে। কিশোর গ্যাংয়ের এই আধিপত্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
অন্যদিকে সদর উপজেলার নয়ারচর এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রেজাউল মোল্লা সঙ্গে পান্নু খান ও মাসুম খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রাত আটটার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে আকবর মোল্লার (৩৫) মুদিদোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের জেরে উভয় পক্ষের তিনটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় ক্লিনিকসহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আবার সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মুদিদোকানি আকবর মোল্লা বলেন, ‘আমরা মোল্লা বংশের লোক হওয়ায় খান বংশের লোকজন আমার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। আমি তো কোনো মারামারি গ্যাঞ্জামে নেই। তাহলে আমার দোকানে হামলা কেন? আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংগুলো কয়েকটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল নিয়ন্ত্রণ করে। তারা চাইলে স্থানীয়ভাবে বসে এ ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে পারে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতে দুটি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো আটক নেই। তবে যাঁরা সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’