সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বলেন, ইদানিং নওগাঁ শহরের প্রধান সড়কসহ পৌর এলাকায় যানজট অসহনীয় হয়ে পড়েছে। শহরের ভেতরে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরে যানজট লেগে থাকে। এতে পৌরবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্র তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যানজট ছাড়াও শহরের আরও একটি বড় সমস্যা হচ্ছে চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাঘাট। শহরের ব্যবসাপ্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে পুরাতন সোনালী ব্যাংক রোড, সুপারিপট্টি, কাপড়পট্টি, তুলাপট্টি, ইসলামপুর রোড, চুড়িপট্টি, কাঁচাবাজার, মুরগিবাজার, মাছবাজারসহ বেশকিছু রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর বেহাল রাস্তাঘাট যেন নওগাঁবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের উদাসীনতা ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শহরবাসী সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই দ্রুত এই অবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

যানজট আর ভাঙা রাস্তাঘাটের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদেরকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভ্যাট, আয়করসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকায় মাঝেমধ্যেই আমাদের ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জরিমানা করে থাকেন। অথচ আমরা দিনের পর দিন যেসব সমস্যায় ভুগছি, সেগুলোর সমাধান করা হচ্ছে না। শহরের যানজট ও রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যৌথ আলোচনা হলে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

জেলা ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরোনো নওগাঁ পৌরসভায় উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া পায়নি। শহরের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পৌর শহরের মানুষ দিনের পর দিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শহরটি। এ ছাড়া শহরে অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের কারণে দিনের পুরোটা সময়ই তীব্র যানজট লেগে থাকছে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

১২ বছর ধরে নওগাঁ পৌরসভার মেয়রের দায়িত্বে আছেন বিএনপি নেতা নজমুল হক। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে নজমুল হক বলেন, অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই চালকেরা আন্দোলন করেন। যানজট সমস্যা সমাধানে শহরে ইজিবাইকের চাপ কমানোর জন্য ২০১৭ সাল থেকে শহর এলাকায় ইজিবাইকের রুট পারমিটের লাইসেন্স বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাইসেন্স পাওয়া ইজিবাইক শহরের ভেতর ঢুকে পড়ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ ইজিবাইকের জটলা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শহরের রাস্তাঘাটের সংস্কার বিষয়ে মেয়র বলেন, শহরের যেসব রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে সেগুলো সংস্কারে ইতিমধ্যে বেশকিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে শহরের প্রধান বাজার এলাকাসহ পৌরসভার সব ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে।