রাঙামাটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, রিসোর্ট-কটেজ খালি নেই সাজেকে

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের ভিড়। গতকাল বিকেলে তোলাছবি: প্রথম আলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাত দিন ছুটি শেষ হয়েছে গতকাল সোমবার। তবে এখনো পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝরনা, সাজেকসহ জেলার নানা পর্যটনকেন্দ্র।

পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ায় পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙা হয়ে উঠেছে। সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের রিসোর্ট-কটেজের সব কক্ষ ২৮ মার্চ পর্যন্ত আগাম ভাড়া (বুকিং) হয়ে গেছে। ফলে সাজেকে গিয়ে রিসোর্ট–কটেজের কক্ষ না পেয়ে অনেক পর্যটককে ফিরে আসতে হচ্ছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় চারপাশে। ঝুলন্ত ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত পর্যটকদের অনেকেই। কেউ বন্ধুবান্ধব, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেতে উঠেছেন হইহুল্লোড়ে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল।

সরেজমিনে কথা হয় চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থেকে রাঙামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে আসা মো. ইরফান, আরিফ হোসেন ও মো. সাহেদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, তিন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছেন। পাহাড়-হ্রদের রাঙামাটি যতবারই বেড়াতে এসেছেন, প্রতিবারই মুগ্ধ হয়েছেন।

কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা আসিকুর রহমান ও মহিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা ৪৫ জনের একটি দল বাসে করে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছেন। ঝুলন্ত সেতুর পাশাপাশি সুবলং ঝরনাসহ কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এই ঝুলন্ত সেতুর তত্ত্বাবধান করে। পর্যটকদের প্রবেশের জন্য ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়। পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলেক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটি শহরে হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের সমাগম বেশ ভালো। গত রোববার ২ হাজার এবং সোমবার ৪ হাজারের অধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে।’

রাঙামাটি শহরের পলওয়েল পার্কে গিয়েও দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। পলওয়েল পার্কের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। পার্কের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কেউ দোলনায় দুলছে, কেউ বসে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। সুইমিং পুলেও পর্যটকদের ভিড়। পার্কের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত ব্যবস্থাপক রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে গত রোববার চার হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টিকিট। দুই দিনে টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি।

পলওয়েল পার্কে বসে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকেরা
ছবি: প্রথম আলো

জেলার কাউখালীর ঘাগড়া থেকে পলওয়েল পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন জ্ঞানময় চাকমা, যিশু চাকমা, লক্ষ্মী দেবী চাকমা ও জুনা চাকমা। তাঁরা জানান, টানা ছুটিতে পরিবার নিয়ে তাঁরা ঘুরতে এসেছেন। পলওয়েল পার্কে খুবই ভালো সময় কাটছে তাঁদের।

রাঙামাটির ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহসভাপতি রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ৬০ শতাংশের মতো পর্যটক নৌযান ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে নৌযান আরও বেশি ভাড়া হবে—এমন আশা ছিল তাঁদের।

রাঙামাটি ফিশারি বাঁধে সড়ক বিভাগের লেকভিউ গার্ডেনেও দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। প্রবেশমূল্য ছাড়াই এই পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ করা যায়। জেলার সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকের সমাগম বেড়েছে। তবে রাতযাপনের জন্য কক্ষ বুকিং না পেয়ে অনেককেই ফিরে আসতে হচ্ছে। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, ‘২৮ মার্চ পর্যন্ত সাজেকে শতভাগ বুকিং রয়েছে। রিসোর্ট ও কটেজ খালি না পেয়ে গতকাল সোমবার সাড়ে ছয় শতাধিক পর্যটক ফিরে গেছেন।’