বাঘের ছবি তুলতে হুড়োহুড়ি, আটকে দেওয়া হয় বন বিভাগের গাড়ি
সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর নিয়ে যাওয়ার সময় উৎসুক জনতার বাধার মুখে পড়ে বন বিভাগ। সবাই ভিডিও করা ও ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। পথে বন বিভাগের গাড়ি আটকে দেওয়া ও এক স্বেচ্ছাসেবককে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
বাঘটি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ওয়াইল্ডটিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের শিকার সুজা বয়াতি (৩৬) ভিটিআরটির (ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম) সদস্য। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি গ্রামে। তাঁরা চাচাও ভিটিআরটির সদস্য। বাঘটিকে অচেতন করে নিয়ে আসার পর একটি লোহার বাক্সে করে গাড়িতে তুলে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। আজ রোববার বিকেলে গ্রামের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় জয়মনি গ্রামের বৈরাগী বাড়ির কাছে বন বিভাগের গড়ি ঘিরে ধরে লোকজন। সবাই বাঘের ছবি, ভিডিওর জন্য ভিড় করে। সেখানে রাস্তা ফাঁকা করে বাঘটি নিয়ে যাওয়ার জায়গা করে দেওয়া চেষ্টা করছিরেন সুজা। তাঁর মাথা ফেটে গেছে, ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল বিকেলে খবর পাওয়ার পর থেকেই বাঘটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা রোববার বেলা আড়াইটার দিকে ট্রাঙ্কুলাইজার গান দিয়ে বাঘটিকে অচেতন করে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আমরা ফাঁদ বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না। সবাই উদ্যোগী না হলে হরিণ শিকার রোধ করা কঠিন। আমরা সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে শিকারিদের দমনে কাজ করছি। ঢাকা থেকে আসা ওই দল ছাড়া এখানে বাঘটিকে অচেতন করার মতো লোক ছিল না। এতে কিছুটা দেরি হয়েছে উদ্ধারকাজ শুরু করতে। তবে বাঘটিকে মোটামুটি ভালো অবস্থায়ই উদ্ধার করা গেছে।’
রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, কোনোভাবেই মানুষকে ধরে রাখা যাচ্ছিল না। ছবি তোলার জন্য তাদের হুড়োহুড়িতে উদ্ধারকাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। একদিক দিয়ে বাধা দিলে অন্যদিক থেকে এসে ভিড় করে ছবি তুলতে।
ফাঁদে আটকে যাওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনীটির সামনের দিকের বাঁ পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডেটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধারের পর বাঘটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য সেটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উৎসুক জনতার চাপে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়েছে উল্লেখ করে মফিজুর রহমান বলেন, মানুষের চাপে বাঘটিকে নিয়ে গ্রাম থেকে বের হতে দেরি হয়েছে। বন বিভাগের কর্মী ও নিজেদের মধ্যে একাধিকবার ধাক্কাধাক্কি করে উৎসুক জনতা। তারা গাড়ি আটকে দেয়। বাঘটির ছবি তোলার জন্য ভিড় ঠেলে এগোতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। পরে বাঘটিকে নিয়ে মোংলা দিয়ে না গিয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হয়ে খুলনায় রওনা দেন তাঁরা।