দ্বিতীয় তলায় ফার্মাসি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক সানিতা জামান কক্ষে বসে আছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করা হচ্ছে না। কয়েকজন শিক্ষার্থী আসছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের কক্ষ খোলা থাকলেও উপাচার্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিউমার্কেটের দোকানের সামনে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানের সামনের চেয়ার-বেঞ্চ ফাঁকা পড়ে আছে। চায়ের দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, এখন ছাত্রছাত্রী নেই, বেচাকেনা নেই। আগে প্রতিদিন সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা বিক্রি হতো। এখন সারা দিনে দুই হাজার টাকাও বিক্রি হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছেন শাহরিয়ার ও আল-মামুন। তাঁদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মবিরতির আগে প্রতিদিন গড়ে ৭০টি গাড়ি যাতায়াত করত। কর্মবিরতির জন্য আজ বেলা ১টা পর্যন্ত ১২-১৪টি গাড়ি গেছে।

গণিতের বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাফিরুল ইসলাম বলেন, ৮ নভেম্বর তাঁদের তৃতীয় বর্ষের শেষ পর্বের ক্লাস শুরু হয়। ওই দিন শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতি শুরু করে। এখন জটে পড়লেন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাঁর বন্ধুদের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পর্ব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁরা এখনো শুরুও করতে পারলেন না। তাঁর দাবি, সমস্যার সমাধান করে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা হোক।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা নির্দেশিকাটি হুবহু গ্রহণ করার ব্যাপারে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রিজেন্ট বোর্ড তা অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প জমিতে আইসিটি পার্ক স্থাপনে তাঁদের আপত্তি আছে। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন।