দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না আবুল মহসিন ওরফে তারেকের। পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু এর আগেই বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন প্রবাসী এই বাংলাদেশি।
আবুল মহসিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নে। ২০০৯ সালে বাহরাইনে যান তিনি। বাহরাইনের রাজধানী মানামার আরসি ড্রাইডক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত রোববার রাতে বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। গতকাল সোমবার সকালে আবুল মহসিনের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে মাতম।
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন আবুল মহসিনের স্ত্রী ও তাঁর একমাত্র মেয়ে। গতকাল বিকেলে সেই বাসায় কথা হয় তাঁর মেয়ে কলেজপড়ুয়া তাসনিম তামান্নার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের কয়েক দিন আগে বাবার দেশে আসার কথা ছিল। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা করে আবার বাহরাইনে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাঁর আর ফেরা হলো না। আমার বাবাকে হারিয়েছি। আর ফিরে পাব না, কিন্তু আর কারও কাউকে যাতে বাবা হারাতে না হয়। এ যুদ্ধ বন্ধ হোক।’
আবুল মহসিনের মেয়ে আরও বলেন, ‘বাবা দেশে থাকলে হয়তো বেঁচে যেতেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাবা প্রতিদিনই কয়েকবার ভিডিও কলে কথা বলতেন। সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাবার সঙ্গে আমি ও মায়ের কথা হয়। এরপর রাতে ফোন করা হলে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোনে রিং হচ্ছিল, কেউ ধরছিল না। গতকাল সকালে একই কোম্পানিতে কাজ করা আমাদের এক আত্মীয় বাবা মারা গেছেন বলে জানান।’
বাসার তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায় বাসাভর্তি স্বজন। একটি কক্ষে কান্না করছেন আবুল মহসিনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম। তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য স্বজনেরা। রোকেয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে স্বামীকে হারিয়ে ফেলব কখনো ভাবিনি। স্বামীর মুখটি যাতে দেখতে পারি। দ্রুত যাতে লাশটি দেশে আনা হয়।’
গতকাল সকাল ছয়টার দিকে আবুল মহসিনের মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা জানিয়ে তাঁর শ্যালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, লাশ যাতে দেশে আনা যায়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন নিহত মহসিনের মেয়ে তাসনিম তামান্না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবার ফোন করে প্রায়ই পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দিতেন। এখন আমাদের খবর নেওয়ার আর কেউ রইল না।’