এলপিজি সিলিন্ডার নেই, ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছেন

দোকানে এসে গ্যাস কিনতে না পেরে হতাশ এই ক্রেতা। গতকাল বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায়ছবি: জুয়েল শীল

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকার সোহেল এন্টারপ্রাইজে আজ শুক্রবারও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার নেই। সকাল থেকে দোকানে এসে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোহাম্মদ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশকেরা আজ সিলিন্ডার দেননি। চার থেকে পাঁচজনকে ফোন করেও লাভ হয়নি। আজ ছুটির দিন, তাই সরবরাহ বন্ধ আছে। দোকানে মজুত না থাকায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই এলপিজির সংকট চলছে। এর মধ্যে নানা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এলপিজি বিক্রি বন্ধ রেখেছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। তবে বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। তারপরও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দোকানগুলোয় সিলিন্ডার আসছে না, কিংবা এলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের বিক্রেতারা সিলিন্ডারের জন্য পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পাচ্ছেন না। তবে দুজন পরিবেশক জানিয়েছেন, আজ বিকেল থেকে সিলিন্ডার সরবরাহ হতে পারে। যদিও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দোকানে সেই সরবরাহ পৌঁছানোর খবর মেলেনি।

দুর্ভোগে গ্রাহকেরা

আবাসিক বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এলপিজি ব্যবহার করছেন। বর্তমানে বছরে এলপিজির চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ টন। ফলে বাজারে সরবরাহ কমলে বা দাম বাড়লে দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকেরা—এবারও সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হান্নানের রান্নাঘরে তিন দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। হঠাৎ সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে তাঁর পরিবার। রান্না বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনে চাপ বেড়েছে।

আজ মুঠোফোনে হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোথাও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। হোটেলের খাবারই এখন ভরসা। আজ কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কবে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না।’

তবে আগামীকাল শনিবার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন নগরের ২ নম্বর গেটের মেসার্স মোহাম্মদিয়া ট্রেডিংয়ের মালিক মুহাম্মদ আলী আজম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানে আপাতত কোনো সিলিন্ডার নেই। তবে কাল থেকে পরিবেশকেরা সরবরাহ করবেন—এমন আশ্বাস তিনি পেয়েছেন।

এলপিজির এই সংকটকে কৃত্রিম বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দেশে আমদানির সংকট নেই। আমদানি খরচও কম। তবু কৃত্রিমভাবে সংকটের সৃষ্টি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন ক্রেতারা।