বান্দরবান (৩০০) আসনের সংসদীয় নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এনসিপির নেতারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা হওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে বান্দরবান একটি। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মতে, সমঝোতা হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। এনসিপির প্রার্থীর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী হওয়ার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কম। সে তুলনায় এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী।
গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা আসে। সমঝোতা অনুযায়ী, এনসিপিকে দেওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে বান্দরবান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী। নির্বাচনী জোটে থাকা জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এমনকি ওই জোটে থাকা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে এনসিপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তিন দলের নেতা-কর্মীরাই মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন বলে প্রার্থীরা জানিয়েছেন।
জোটের তিনটি দলের প্রার্থী ও নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থিতা বহাল রাখার জন্য তাঁরা প্রত্যেকে নিজ দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তাঁরা জোটের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জোটের সমঝোতার ভিত্তিতে দলের নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। প্রত্যাহারের নির্দেশনা না পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেছেন, সমঝোতা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত এনসিপির আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন জোটের প্রার্থী থাকবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাসের অঞ্চল। সেটি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতায় এনসিপিকে বান্দরবান আসন দেওয়া হয়েছে। এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন কয়েক দিন আগে প্রথম আলোকে বলেছেন, ভুলভ্রান্তির আশঙ্কায় হয়তো জোটের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আবুল কালাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে তাঁদের আশা।
জামায়াতে ইসলামী জেলা আমির মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, আসন সমঝোতা হলেও বান্দরবানের বাস্তবতা ভিন্ন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আইনজীবী হিসেবে সবার পরিচিত এবং জাতিধর্ম-নির্বিশেষে তাঁর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা আছে। আর এনসিপির প্রার্থীর তেমন পরিচিতি নেই। তিনি মহেশখালীর মানুষ। এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বহিরাগত কাউকে ভোট দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে সংবেদনশীল ঐতিহ্য আছে। এ জন্য তাঁরা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী রাখা হবে।