মশকনিধনে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না দাবি করে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, পাড়া-মহল্লায় মাঝেমধ্যে বিকট শব্দের ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো হলেও শব্দদূষণ ছাড়া তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস না করে এভাবে ধোঁয়া দিয়ে মশকনিধন করা যে সম্ভব নয়, তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া যেসব ওষুধ ছিটানো হয়, তাতে ভেজাল রয়েছে বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। অথচ সিটি করপোরেশনে মশকনিধনের জন্য বিরাট অঙ্কের টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এ বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো সময়ের তুলনায় আমার সময়ে নগরে ব্যাপকভাবে উন্নয়নকাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। মশাকনিধনেও সিটি কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি মশার উৎপাত যেন না বাড়ে, সে জন্য নিয়মিত নালা-নর্দমাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তবে তিনি (আসাদ উদ্দিন আহমদ) হঠাৎ কেন এমন বিবৃতি দিলেন, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না।’

এ বিষয়ে নগরের একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের মাঝামাঝি সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে আসাদ উদ্দিন আহমদ মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। গত কয়েক বছর তিনি একাধিকবার সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা।

আসাদ উদ্দিন আহমদ বিবৃতিতে আরও লিখেছেন, সিটি করপোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ। কিন্তু ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অন্যান্য লোকদেখানো কাজ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত রয়েছে।