সেই মায়ের পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, শোধ হয়েছে ধারের টাকা

হামের উপসর্গে আক্রান্ত চার শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে কামরুন নাহারফাইল ছবি

হামের উপসর্গ নিয়ে চার সন্তানকে নিয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া সেই নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোর অনলাইনে ‘হামের উপসর্গ: চড়া সুদে ৮ হাজার টাকা ধার, চার সন্তান নিয়ে হাসপাতালে মা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবারটি আর্থিক সহায়তা পায়। সহায়তাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ওই নারীর সন্তানদের হামের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান চড়া সুদে নেওয়া নারীর ধারের আট হাজার টাকা পরিশোধের পাশাপাশি তাঁর সন্তানদের চিকিৎসার জন্য নগদ সহায়তা করেছে।

হাসপাতালে সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসাধীন কামরুন নাহার নামে ওই নারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর সন্তানদের অসুস্থতা নিয়ে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর আজ ঢাকা থেকে দুই ব্যক্তি ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া সুবর্ণচরের ‘সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ তাঁর ধারের আট হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি তাঁর সন্তানদের চিকিৎসার জন্য নগদ ১৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে। তাঁর সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেবুলাইজার মেশিনটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নতুন পাঁচটি নেবুলাইজার মেশিন প্রদানের কথা বলেছেন সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুমন। আজ বিকেলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার নেবুলাইজার মেশিনগুলো কিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মো. সাইফুল ইসলাম আরও জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চার শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা আরও দুটি অসহায় পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টাকার অভাবে যদি কোনো শিশুর চিকিৎসায় সমস্যা হয়, সেটি তাঁর সংস্থাকে অবহিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় ব্যাপকভাবে শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। চলতি বছর শুধু সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। রয়েছে বয়স্ক ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরাও।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ নার্স ও নার্স ইনচার্জ শুভ্রা রায় প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।