রেললাইনে পর্যাপ্ত পাথর নেই, ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি

রেলওয়ের ময়মনসিংহ জোনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রেললাইনে পাথর না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

  • কোনো কোনো জায়গায় রেললাইন মাটিতে দেবে গেছে।

  • রেলওয়ের একটি ঘুমটিঘর ও রেলক্রসিং। রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের রেললাইনেও কোনো পাথর দেখা যায়নি।

ময়মনসিংহ-ভৈরব রেলপথের ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনে পর্যাপ্ত পাথর নেই
ছবি: প্রথম আলো

পর্যাপ্ত পাথর না থাকায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশের রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসা-যাওয়া করার সময় বগিসহ ট্রেন বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গৌরীপুর থেকে ভৈরব পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত পাথর ফেলে রেললাইন সংস্কার করা না হলে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি থাকবেই।

রেলওয়ের ময়মনসিংহ জোনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার ৮০ কিলোমিটার রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত পাথর না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বগাপোতা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল হাই বলেন, তিন-চার মাস আগে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন এই রেলক্রসিংয়ের কাছে লাইনচ্যুত হয়েছিল। রেললাইনে পর্যাপ্ত পাথর নেই বলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নিয়মিত পরিষ্কার না করায় রেললাইনের দুই পাশের ঘাস-লতাগুল্ম বড় হয়ে ছোটখাটো জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সোহাগী রেলস্টেশনের দুই পাশের রেললাইনের নিচে পাথর অনেক কম। কোনো কোনো জায়গায় রেললাইন মাটিতে দেবে গেছে। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সোহাগী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় বারবার ঝাঁকুনি দিয়ে লাফিয়ে উঠতে দেখা যায়। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের নিচে পর্যাপ্ত পাথর না থাকায় লাইনটি সমতল থেকে কিছুটা উঁচু হয়ে রয়েছে।

সোহাগী রেলস্টেশনের কিছুটা দক্ষিণে ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ী সড়ক। ওই সড়কে রয়েছে রেলওয়ের একটি ঘুমটিঘর ও রেলক্রসিং। রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের রেললাইনেও কোনো পাথর দেখা যায়নি।

সোহাগী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষটি বন্ধ পাওয়া গেছে। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, এই স্টেশনে স্টেশনমাস্টার নেই। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য পড়ে আছে। এ কারণে সোহাগী রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ।

আঠারবাড়ী রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান

মো. জাহাঙ্গীর বলেন, রেললাইন নিয়মিত পরিদর্শনের কাজ করে থাকেন রেলওয়ের ওয়েম্যান পদের লোকজন। কিন্তু এখানে কোনো ওয়েম্যান নিযুক্ত নেই। ফলে রেললাইন নিয়মিত পরিদর্শনের কাজ হচ্ছে না।

আঠারবাড়ী স্টেশনমাস্টার লাবণী আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন থেকে সোহাগী ও আঠারবাড়ী রেলস্টেশন হয়ে দিনে দুটি ও রাতে দুটি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দ্রুতগতির ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেস।