জামায়াত ক্ষমতায় গেলে লবণ আমদানি নয়, রপ্তানি করা হবে

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছাড়ায় গণসংযোগ করেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আজ বেলা ১১টায়প্রথম আলো

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে লবণ আমদানি নয়, রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করেছি। আমি বলেছি, শুধু আমদানি বন্ধ করলে হবে না। লবণকে রপ্তানি পণ্য বানাতে হবে। চাষিদের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। বিনা সুদে ঋণ দিতে হবে। কক্সবাজার ও বাঁশখালী মিলে ৫৫ হাজার মানুষ লবণ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।’

আজ বুধবার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় হামিদুর রহমান আযাদ এ কথাগুলো বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সারা দেশে আমরা উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ করছি। জনগণ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা এবার উৎসবের সঙ্গে ভোট দিতে অপেক্ষা করছে। তবে দুঃখজনকভাবে লক্ষ করছি, ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, একটি দল নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার ও সমতার কথা বলে এসেছে; নির্বাচনে তারাই আজ নারীর ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও সহিংসতায় লিপ্ত হচ্ছে। এটি শুধু অমানবিক চরম উদাহরণ নয়, বরং নারীর প্রতি অমর্যাদা ও অবমাননা।

হামিদুর রহমান আযাদ এসব ঘটনাকে সামনে রেখে আগামী নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীদের ওপর অব্যাহত এই সহিংসতা চলতে থাকলে আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে গভীর সংশয় সৃষ্টি হবে। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

আজ কালারমারছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে প্রার্থীদের ব্যানার ঝুলছে। বিভিন্ন দোকানে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ অঞ্চলভিত্তিক ভোটের হিসাবও দিচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে আলমগীর ফরিদের বাড়ি মহেশখালী ও হামিদুর রহমানের বাড়ি কুতুবদিয়া। কুতুবদিয়ার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি ভোটার রয়েছে মহেশখালীতে। এ ছাড়া রয়েছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। সব মিলিয়ে কক্সবাজার-২ আসনে নির্বাচন জমে উঠেছে।

আজ সকাল থেকে মহেশখালী উপজেলায় গণসংযোগ করেছেন হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল মঙ্গলবারও তিনি মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগে তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে জোর দিচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টায় কালারমারছড়া ইউনিয়নে গণসংযোগ শুরু করেন হামিদুর রহমান আযাদ। ডেইল্যাঘোনা এলাকায় মানুষের ঘরে ঘরে যান তিনি। এ সময় ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

কিছুটা পথ গাড়িতে চড়ে, কিছুটা হেঁটে গণসংযোগ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও অনুসারী উপস্থিত ছিলেন। ডেইল্যাঘোনা স্টেশনে গণসংযোগের সময় আরাফ ফুড আইল্যান্ড নামের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন হামিদুর রহমান আযাদ। পরে তিনি দোকানমালিক ও কর্মচারীদের মিষ্টিমুখ করান। দোকানটির মালিক মোকতার আহমদ বলেন, ‘উনি মাটির মানুষ। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারেন। দীর্ঘদিন মহেশখালীবাসীর কাছে আসতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বৈষম্য দূর করতে ও পরিবর্তনের জন্য তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে বলেছেন।’

ডেইল্যাঘোনার পর মিজ্জিরপাড়া, আঁধারঘোনা, নুনাছড়ি, কালারমারছড়া স্টেশন, নয়াপাড়ায় গণসংযোগ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় লবণমাঠ ও সবজিখেতের শ্রমিকদের সঙ্গে করমর্দন করতেও দেখা গেছে তাঁকে। পরে কালারমারছড়া ভূমি অফিসের সামনে পথসভার বক্তব্য দেন। এরপর বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তিনি কালারমারছড়ার ছিকনিপাড়া ও ঝাপুয়া এলাকায় গণসংযোগ করেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মহেশখালীর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এখন মহেশখালী বন্দরে স্থানীয়দের চাকরি নেই। বৈষম্য ও বঞ্চিত করা হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করব।’

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও এ আসনে আরও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউল হক (হাতপাখা), গণ অধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) এবং জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম (লাঙ্গল)।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা রাতদিন এক করে প্রচার চালাচ্ছেন। এ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজন সাবেক সংসদ সদস্য। মূলত তাঁদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের একজন আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, অন্যজন হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন। এ আসন থেকে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ দুইবার ও হামিদুর রহমান আযাদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন। এর মধ্যে কুতুবদিয়া উপজেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৯ জন ও মহেশখালী উপজেলায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৩২ জন ভোটার রয়েছেন।