আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ জেলার জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দন কুমার দাস বাদী হয়ে কবির আহমদ ও মুহিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত সাত–আটজনকে আসামি করে জুড়ী থানায় মামলা করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণে কবির আহমদ ও মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে অভিযুক্তদের জীবনে প্রথমবারের মতো অপরাধ বিবেচনায়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রায় সাত বছর নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কারণে আদালত তাঁদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেন।

আদালত প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্সের ১৯৬০–এর অধীনে ১০০টি গাছ রোপণ, নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়া, মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা, শান্তিরক্ষা ও সদাচরণ করা, আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়া ইত্যাদি শর্তে তাঁদের মুক্তি দেন। এই শর্তগুলো প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রবেশন কর্মকর্তাকে এক বছর পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রবেশন কর্মকর্তা এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি সাইফুর রহমান ও আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদরুল হোসেন ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম ও লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে প্রবেশন খুব ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত নিজেদের সংশোধনের চমৎকার সুযোগ পাচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন