ফরিদপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
আগস্টের ১৫ দিনেই সাত মাসের আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে
জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। আর চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭২৬।
ফরিদপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে যতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তার চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুরে আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে ৮ জনের মৃত্যু হলো। ফরিদপুরে গত ছয় বছরে ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত ২১ জুলাই। ওই দিন থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে ১১৩ জন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ২ হাজার ৯১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন। এর মধ্যে আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৬ জন। জানুয়ারি থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ১৮৭ জন। গত সাত মাসে ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে যতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তার থেকে ৫৩৯ জন রোগী বেশি আক্রান্ত হয়েছেন আগস্টের প্রথম ১৫ দিনেই।
ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিশ্বজিৎ সাহা (৫৫)। তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের সঞ্জয় সাহার ছেলে। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর সাত ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে মারা যাওয়া অপর সাতজন হলেন রাজবাড়ী সদরের বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মিজানের ছেলে জয়নাল আরেফিন (৬৫), ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বনমালিদিয়া মহল্লার বাসিন্দা আবুল হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫৫), সালথার যদু নন্দীপুর গ্রামের মো. ফরহাদের স্ত্রী ময়না বেগম (৪০), মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুরের শহীদুল্লাহ মিয়ার ছেলে মাহাবুব ভূঁইয়া (৩৫), ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের কেশবনগর গ্রামের সুকুমার কীর্তনীয়া (৭৭) এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সালমা বেগম (৪২) ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরর্দি গ্রামের আবেদ আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫)।
গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেডিসিন (পুরুষ) ও মেডিসিন (মহিলা) ওয়ার্ডে রেখে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। শয্যার সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের রাখা হয়েছে মেঝেতে।
পুরুষ ওয়ার্ডে কথা হয় বোয়ালমারী সাতৈর ইউনিয়নের কান ফোরদী গ্রামের বাসিন্দা মোমেনা বেগমের সঙ্গে। মোমেনা বেগম তাঁর ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শরিফুল ইসলামকে নিয়ে এ হাসপাতালে এসেছেন গত শনিবার। তিনি বলেন, অন্য দিনগুলোতে তেমন গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা না করলেও আজ (গতকাল) চিকিৎসক ও নার্সরা ভালোভাবে দেখাশোনা করছেন, স্যালাইন দিয়েছেন, ওষুধ দিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী রেশমী বেগম (৩০)। তিনি গত সোমবার দুপুরে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রেশমী বেগম বোয়ালমারীর হাশামদিয়া মহল্লার জাহিদ মোল্লার স্ত্রী।
ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত নতুন করে ১১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯১৩।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের আরও সজাগ ও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সচেতন না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।