মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, বাগাড় মাছটি কিনে বিক্রির জন্য তিনি মোবাইলে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক ব্যবসায়ী ফোন করে বলেন, মাছটি তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিতে। এরপর তিনি ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে সর্বমোট ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকায় বাগাড় মাছটি বিক্রি করে দেন।

চান্দু মোল্লা আরও বলেন, ‘বাগাড় মাছ যে বিপন্ন প্রজাতির মাছ, তা আমার জানা নেই। আমরা সারা বছর মাছ বাজার বা ফেরিঘাটে জেলেদের নিয়ে আসা মাছ নিলাম করে কিনি। কখনো কোনোদিন মৎস্য বিভাগ, পুলিশ বা সরকারি কোনো দপ্তরকে অভিযান চালাতে বা নিষেধ করতে দেখেনি। আমরা ব্যবসায়ী, মাছ বাজারে উঠলে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ করে সংসার চালাই।’

জেলে নিমাই হালদার বলেন, রোববার খুব সকালে মাছ ধরতে নদীতে যাই। সকাল ৬টার দিকে জাল তুলতেই দেখি বড় এই বাগাড় মাছ আটকা পরেছে। অনেক দিন পর মাছটি পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। মাছটির ভালো দামও পেয়েছেন বলে তিনি জানান।

বাগাড় একটি বিপন্ন প্রজাতির মাছ। এ ধরনের মাছ শিকার নিরুৎসাহিত করা হলেও গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে প্রায়ই জেলেদের জালে বাগাড় মাছ ধরা পড়ছে। প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে এই মাছ বিক্রিও হচ্ছে। তবে এ ধরনের মাছ শিকার বা বিক্রি বন্ধে বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২২-এর তফসিল অনুযায়ী, বাগাড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ। তাই এর শিকার ও বেচাকেনা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, পদ্মা নদীতে মাঝেমধ্যে বড় মাছ ধরা পড়ে এটা শুধু জেলেদের নয়, এই অঞ্চলের জন্য অনেক সুখবর। বাগাড় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো পরিপত্র না থাকায় তেমন কিছু করতেও পারছি না। তবে জেনেছি এটা বিপন্ন প্রজাতির মাছ। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন