কাঠে নকশা ফুটিয়ে জীবন চলে আশিষের
কাঠে নানা নকশা করেন আশিষ কুমার। এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তাঁর নেই। কাঠমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে কাজ শেখা তাঁর। এখন তিনি কাঠের ফার্নিচারে যেকোনো ফুল-লতার নকশা নিখুঁতভাবে খোদাই করতে পারেন। শুকনো কাঠে বাহারি নকশা ফুটিয়ে তুলে যে আয় হয়, তা দিয়েই জীবন চলে তাঁর।
আশিষের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডোকলাখালী গ্রামে। আলাপে আলাপে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তবে পাস করতে পারেননি। ২০০৭ সালে তিনি গ্রামের আনসার মোল্লা মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজ শেখার পর তিনি কর্মচারী হিসেবে অন্যের দোকানে কাজ করতেন। ২০১২ সালে নিজেই উপজেলার সুবিদখালী বাজারে দোকান ভাড়া নিয়ে খাট, আলমারিসহ বিভিন্ন কাঠের ফার্নিচারে নকশার কাজ শুরু করেন। সংসারের হাল ধরেন। ২০১৭ সালে তাঁর বাবা-মা মারা যান। দোকানের আয় দিয়ে দুই বোনের বিয়ে দিয়েছেন। নিজে বিয়ে করেছেন। দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তাঁর পরিবার।
আশিষ কুমার বলেন, ‘প্রথম দিকে নকশার ব্যাপারে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন কাঠের ওপর যেকোনো ছবি আমি খোদাই করে তুলতে পারি। যে ফার্নিচারের ওপর ফুল যত বেশি, সেটার মজুরি তত বেশি। ঠাকুর, দেবতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি কাঠের ওপর ফুটিয়ে তুললে মজুরি আরও বেশি। খাটের নকশায় দেড় হাজার থেকে টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত, সোফা সেটের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নিই। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে নকশা কারিগরদের সরাসরি লেনদেন না হওয়ায় লাভের বড় অংশ চলে যায় ফার্নিচার–মালিকদের হাতে।’
স্থানীয় সারা কিং ফার্নিচারের মালিক মো. আবু জাফর বলেন, নকশার কাজের কদর আছে সারা দেশে। বোর্ড, স্টিল ও প্লাস্টিকের ফার্নিচারের যুগে হাতে নকশা করা জিনিসের চাহিদা একটুও কমেনি।
উপজেলার সুবিদখালী বাজারে অন্তত ২০টি কাঠের নকশার দোকান আছে। উপজেলার আনাচকানাচ সব মিলিয়ে শতাধিক নকশার দোকান। কিন্তু নকশা কারিগর আশিষের হাতে করা নকশার কাজ অনেক সুন্দর ও নিখুঁত। এ জন্য চাহিদাও বেশি।
আশিষ কুমার স্বপ্ন দেখেন মা–বাবার চিকিৎসা করাতে নেওয়া ঋণ দ্রুত পরিশোধ করে কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে তাঁর কাজের পরিধি বাড়াতে।