সোনারগাঁয়ে বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চলতি মাসের বেতন ও ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধের দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে উপজেলার টিপরদী এলাকায় অবস্থিত চৈতী নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে বাড়িমুখী মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি মে মাসের বেতন ও ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রথমে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে নেমে আসেন। বেলা সোয়া একটা থেকে টিপরদী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিপেটায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, শিল্প পুলিশ তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসে শেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
শ্রমিকদের দাবি, কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রাপ্য অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। নামমাত্র টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে, যা দিয়ে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া ও পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
নোয়াখালী থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী ও প্রথম আলোর ক্রীড়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ দেখা গেছে।’
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক শামীম শেখ প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিকেল পৌনে চারটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মহাসড়কের গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।
শিল্প পুলিশ-৪–এর গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চৈতী নিট কম্পোজিট কারখানায় প্রায় সাড়ে আট হাজার শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। তবে তাঁরা চলতি মাসের বেতন ও ওভারটাইমের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন।