ঢালচর ইউনিয়নের সওদাগর মাছঘাটে গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদারের পক্ষ চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। এ মামলায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কয়েক বছর আগে ইউনিয়নের আবদুল হক মিঞার বাজারে একটি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন করে। ভাঙনের কারণে মাছঘাটের অধিকাংশ নদীতে বিলীন হলে স্ট্রিটলাইটটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম ব্যাপারী সওদাগর মাছঘাটে অবস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বসান। বাজার ভেঙে যাওয়ার পর মাঝের চর খালের মাথায় বনের মধ্যে একটি বাজার ও মাছঘাট বসান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার।

চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে নতুন বাজারে বসানোর জন্য লাইটস্ট্যান্ডটি তুলে নিতে আসেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম ব্যাপারীর লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। প্রায় এক ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর ছয়জন চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, ভাঙনকবলিত ইউনিয়নের জেলেদের কথা চিন্তা করে মাঝের খাল দিয়ে ভেতরে একটি মাছঘাট ও খাল সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু রাতে খালের মুখ দেখা যায় না। এ কারণে জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খালের মুখে স্ট্রিটলাইটটি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নিরব মিঞা, লোকমান হোসেনসহ আবুল কালাম ব্যাপারী স্ট্রিটলাইটটি তাঁদের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করার মতলবে তুলে এনেছেন। জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য স্ট্রিটলাইটটি নিতে চাইলে তাঁরা বাধা দেন এবং হামলা চালান। এতে তিনি (চেয়ারম্যান), ইউপি সদস্য মোস্তফাসহ ২০-২২ জন আহত হয়েছেন।

তবে অপর পক্ষের লোকজনের দাবি, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত মাছঘাটে স্ট্রিটলাইটটি ব্যবহার করতে চাইছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে স্ট্রিটলাইটটি তুলে নিতে আসেন। বাধা দিতে গেলে তাঁরা পাল্টা হামলা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। পরে চেয়ারম্যান তাঁর লোকজনকে ব্লেড দিয়ে কেটে থানায় মামলা করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে তাঁদের আহত একজনকে পুলিশ আটক করেছে।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়নের সদস্য মোস্তফা বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন