মধ্যনগর বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে গর্ভবতী অবস্থায় মাসখানেক ধরে বাজারের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে তিনি কাউকে বিরক্তও করতেন না। কথা বলতে পারলেও অসংলগ্ন উত্তর দিতেন। রাতে বাজারের আশপাশেই ওই নারী ঘুমাতেন।

মধ্যনগর বাজারের ব্যবসায়ী জহিরুল হক বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও তাঁর নবজাতকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মধ্যনগর থানার ওসির মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা এই কাজে ওসি সাহেবকে সাধুবাদ জানাই।’

ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘কোনো বাহবা বা প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, বিবেকের তাগিদেই নবজাতক ও ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি ঘটনাটি মধ্যনগরের ইউএনও স্যার ও ধর্মপাশা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানিয়েছি। বর্তমানে শিশুটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আছে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবজাতক শিশু ও মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে গিয়ে দেখে এসেছি। ওই দুজন এখন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন। আমি সরকারিভাবে দুই দিনের প্রশিক্ষণে এলাকার বাইরে যাচ্ছি। সেখান থেকে ফেরার পর নবজাতক শিশু ও তার মায়ের জন্য বিধিমোতাবেক যা যা করা দরকার,তা-ই করা হবে।’

ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর হাসান বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে নবজাতকের রক্ষণাবেক্ষণ ও দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবজাতক ও তার মা দুজনেই ভালো আছে। চিকিৎসা শেষে তাঁদের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। বিধিমোতাবেক যা যা করা দরকার, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকিছুই করা হবে।