অভিযোগের বিষয়ে ‘স্বপ্নপুরী’র স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্বপ্নপুরীতে মোট জমি আছে ৫৬ একর। যাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁরা দাবি করছেন ৭৩ একর। মূলত এই জমিগুলো ছিল এক সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের। দেশভাগের সময় তিনি চলে গেলে জমিগুলো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। জমিগুলো তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে কিনেছেন, যার রেকর্ড, খাজনা, দলিল সবই আছে। এমনকি যাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেন, তাঁরা সর্বশেষ পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো জমি বুঝিয়ে দিতে পারেননি। কেউ হয়তো তাঁদের উসকানি দিয়ে এগুলো করাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁরা সবাই একসময় তাঁদের কর্মচারী ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান তাঁদের ডেকে নিয়ে কিছু টাকা দিয়েছেন। গরিব মানুষ টাকা পেয়ে এগুলো করছেন।

শিবলী সাদিক আরও বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণ জমি-জায়গা দান করেছি, মসজিদ বানিয়ে দিছি, ৫০ কোটি টাকা খরচ করে আমাদের জমি-জায়গা দখল করার দরকার আছে? আমরা সাত-আট বিঘা জমি ওই গ্রাম থেকে কিনেছি। এ জন্য ওদের দাদা টাকা নিছে, বাবা টাকা নিছে, আবার ওরাও টাকা নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার কথা শুনে প্রতিপক্ষ এসব করাচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী ‌লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে একটু-আধটু দ্বন্দ্ব আছে। আবার সামনে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার কথা। এ জন্য তিনি হয়তো মনে করেছেন, আমি এগুলো করা‌চ্ছি। তবে এসবের কিছুই আমি জানি না। আমি এসবের মধ্যে নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নে বসবাসকারী অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জমি সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও তাঁর চাচা দেলোয়ার হোসেন জবরদখল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। পর্যটনকেন্দ্র স্বপ্নপুরীর মালিক দেলোয়ার হোসেন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা। ভূমিহীন হয়ে তাঁরা কৃষ্টি-কালচার সব হারাতে বসেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে আমিনুল হক, মনোয়ার হোসেন, আনার আলী, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুজ্জামান, ব্যবস্থাপক মুক্তার আলী, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনারুল আজিম সব সময় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন