তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়ার ছেলে শ্রাবনের ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকার। আজ দুপুরে দুর্ঘটনার পর
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়ার ছেলে মো. শ্রাবণের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের আজিজনগড় এলাকায় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কার ফেলে পালিয়ে গেছেন শ্রাবণ। তবে প্রাইভেট কার ও বাইসাইকেলটি জব্দ করেছে তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম ঈসা মিয়া ওরফে বাদল মাস্টার (৭৯)। তিনি ২০০৪ সালে উপজেলার গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন।

তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ঈসা মিয়া আজিজনগড় বাজার থেকে বাইসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। একই সময় কালান্দিগছ বাজার থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে বাংলাবান্ধার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানার ছেলে শ্রাবণ (২৫)। ঈসা মিয়া বাইসাইকেল নিয়ে পার্শ্ব–সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় দ্রুতগামী প্রাইভেট কারটি তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে বাইসাইকেলসহ সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন ওই শিক্ষক। এ সময় প্রাইভেট কারটি ওই মহাসড়কের পাশে একটি আমবাগানে উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কার ফেলে পালিয়ে গেছেন শ্রাবণ। তবে প্রাইভেট কার ও বাইসাইকেলটি জব্দ করেছে তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশ

তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে শ্রাবণের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় ওই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। ঘটনার পরপরই শ্রাবণ পালিয়ে গেছেন। এদিকে লাশের সুরতহাল শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জানতে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।