ঘরে ঢুকে আলমারি খুলে টাকা নিচ্ছিল অচেনা যুবক, চিৎকার দিতেই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত
মা–বাবা দুজনেই ছিলেন ঘরের বাইরে। স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরা ইবনাত। হঠাৎ সে দেখে, অচেনা এক যুবক বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন। আলমারি খুলে টাকাপয়সাসহ মূল্যবান জিনিসও এক এক করে নিয়ে নিচ্ছিলেন। আতঙ্কে চিৎকার করে আফরা। এতে ঘরে ঢোকা যুবক ছুটে গিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
নোয়াখালী জেলা শহরের বসুন্ধরা কলোনি এলাকায় আজ বুধবার সকাল আটটায় এ ঘটনা ঘটেছে। চুরি করতে ঘরে ঢোকা যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত আফরা ইবনাত (১২) শহরের হরিনারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে সড়ক থেকে সন্দেহভাজন এক যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তাঁর নাম মো. সিয়াম (২৫)। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তবে পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বর্ণনার সঙ্গে জনতার হাতে আটক যুবকের চেহারার মিল নেই।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে আফরার বাবা কেনাকাটার কাজে বাইরে ছিলেন এবং মা পাশের বাসায় গিয়েছিলেন। এ সময় ঘরের দরজা খোলা পেয়ে এক যুবক ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং আলমারি খুলে টাকা চুরির চেষ্টা করতে থাকেন। স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্কুলছাত্রী আফরা ঘরে যুবককে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে। এ সময় চোর ধারালো ছুরি দিয়ে আফরার ওপর হামলা চালান। এতে তার দুই হাত, মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক জখম হয়। আহত আফরার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। এ সময় বাসার সামনে সন্দেহজনকভাবে সিয়াম নামের এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে লোকজন পিটুনি দেয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফখরুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্রী আফরার স্বজনেরা বাইরে থাকায় তারা সরাসরি মূল অপরাধীকে দেখেনি। চিৎকার শুনে স্থানীয় উৎসুক জনতা রাস্তার পাশে থাকা সিয়াম নামের এক যুবককে দেখতে পেয়ে আটক ও মারধর করে। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে তাঁরা ওই যুবককে থানায় নিয়ে আসেন।
ফখরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী যে ব্যক্তির বর্ণনা দিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে তার তেমন মিল নাই। আঘাতপ্রাপ্ত সিয়ামকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। ঘটনার প্রকৃত মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশি তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।