গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সিঅ্যান্ডবি ঘাটের মূল ভূখণ্ড ঘেঁষে রয়েছে হাজি নূর ড্রেজিং প্রকল্প ও অভি এন্টার প্রাইজ নামে দুটি খননযন্ত্র। অভি এন্টার প্রাইজের খননযন্ত্রটি ছয় সিলিন্ডারযুক্ত। এতে কাজ করেন মিস্ত্রি হেলাল হাওলাদার (৩২)। তাঁর সহযোগী রাকিব (১৮) ও তাসিক (১৬)। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলা তাঁরা কাজ করেন না। প্রতি রাতে তাঁরা বালু তোলেন নদী থেকে। এ জন্য মাসে মিস্ত্রিকে ১০ হাজার ও সহযোগীদের ৪ হাজার টাকা করে বেতন দেন আবু ফকির। 

হাজি এন্টারপ্রাইজের খননযন্ত্রটি চার সিলিন্ডারযুক্ত। এতে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন মো. রফিক (৩০)। তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন সাইফুল (২৮) ও রাজু (২৬)। ওই খননযন্ত্রের ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ বলেন, এ খননযন্ত্রের মালিক মাওয়া এলাকার তারা মাতুব্বর। তাঁর কাছ থেকে এটি ভাড়া নিয়ে বালু তুলছেন আবু ফকির (আনোয়ার হোসেন)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি রাতে দুটি খননযন্ত্র দিয়ে অন্তত ২৩টি বাল্কহেড দিয়ে বালু তুলে পাড়ে আনা হয়। প্রতিটি বাল্কহেডে আট হাজার ঘন ফুট বালু ধরে। ওই হিসাবে প্রতি রাতে ওই দুটি খননযন্ত্র দিয়ে ১ লাখ ৮৪ হাজার ঘনফুট বালু তোলা হয়। প্রতি ঘনফুট বালু বিক্রি করা হয় ছয় টাকা দরে; অর্থাৎ প্রতি রাতে বালু বিক্রি করে আয় করা হয় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক মাস আগে বালু তোলা শুরু হয়। মধ্যে কিছুদিন বন্ধ ছিল। আবার এক সপ্তাহ ধরে বালু তোলা চলছে। 

নদীর পাশে নিয়ে আসার পর বলগেট থেকে বালু খালাস করার সময় প্রচণ্ড শব্দ হয়। এ শব্দের কারণে এলাকাবাসী রাতে ঘুমতে পর্যন্ত পারছে না। একবার পাইপের সংযোগ খুলে যাওয়ায় পদ্মা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তির বাড়ি বালু ও পানিতে একাকার হয়ে যায়।

বালু তোলার সঙ্গে জড়িত অন্তত চারজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নেওয়া হয় নানা কৌশল। সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলাকায় বেশ কয়েকজন বালুর ব্যবসা করেন। তাঁরা সিলেট, রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী থেকে বৈধভাবে বালু কিনে আনেন। এর আড়ালে চলে অবৈধ এ বালুর ব্যবসা। 

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিক্রিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি বালু তোলেন না। তিনি ধাওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু কিনে আনেন। এর রসিদও তাঁর কাছে আছে। খননযন্ত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, এগুলো দিয়ে তিনি বালু তোলেন না, ভাড়া দেন।

বালু তোলার বিষয়ে ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘বালু তোলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সামনে নির্বাচন। প্রতিপক্ষ আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এ রকম অভিযোগ করছে। বালু তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ 

ইউএনও লিটন ঢালী বলেন, নদী থেকে বালু তোলার কোনো বৈধতা নেই। এসব কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।