সীতাকুণ্ডে শিবচতুর্দশী মেলা শুরু, তীর্থযাত্রী কম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনের শিবচতুর্দশী মেলা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে এ মেলা শুরু হয়। আগামীকাল রোববার শিবরাত্রি। প্রতিবছর দিনটিতে চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তীর্থ করতে আসেন।
এবারের মেলা শুরু হয়েছে সংসদ নির্বাচনের এক দিন পর। মেলার সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও প্রথম দিনে তীর্থযাত্রী একেবারে নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে সকালে গিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রনাথ ধামের ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন, ভৈরব মন্দির এলাকায় তীর্থযাত্রী তেমন নেই। কয়েকজন ব্রাহ্মণ ব্যাসকুণ্ডের শ্রদ্ধাঙ্গনে এসেছেন। এবার মতুয়া সম্প্রদায় ও জেলে সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানগুলো মোহন্ত আস্তান বাড়ির ভেতরে আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিবছর এ সময়ে এই শ্রদ্ধাঙ্গন এলাকায় ব্রাহ্মণে পরিপূর্ণ হয়ে যেত। মোহান্ত আস্তানবাড়িসহ পুরো চন্দ্রনাথ ধাম এলাকায় প্রচুর তীর্থযাত্রী পরিপূর্ণ থাকত। তবে এ বছর এমন চিত্র নেই। জানতে চাইলে পণ্ডিত রাজীব চক্রবর্তীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামীকাল সন্ধ্যায় চতুর্দশী তিথি শুরু হলে স্নান তর্পণ কাজ শুরু হবে। এবার অন্যান্য বারের তুলনায় তীর্থযাত্রী অনেক কম দেখা যাচ্ছে।’
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলার প্রথম দিন আজ ত্রয়োদশীতে তীর্থ করতে আসা দর্শনার্থীরা সংযম পালন করবেন। পরে আগামীকাল চতুর্দশী তিথিতে ব্রত রেখে স্নান তর্পণ করবেন। এরপর সীতাকুণ্ডের মঠ মন্দির পরিক্রমা করে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ও চন্দ্রনাথ মন্দিরের শিবের মাথায় জল ঢালবেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মার সন্তুষ্টির জন্য শ্রাদ্ধ করবেন। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তীর্থধাম এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সহকারী ব্যবস্থাপক তুষার চক্রবর্তীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনে তীর্থযাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হতো। এ বছর নির্বাচনকালীন সময় থাকায় এখনো তীর্থযাত্রী তেমন দেখা যাচ্ছে না। মূল তিথি আগামীকাল। হয়তো আগামীকাল তীর্থযাত্রীরা আসবেন।’
সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ প্রথম আলোকে বলেন, মেলায় তীর্থযাত্রী আসবে এটাই স্বাভাবিক ধরে নিয়ে তারা মেলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। প্রতিবছরের মতো তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার সভা করেছেন। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন মঠ–মন্দিরের সংস্কার এবং চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার পথে সংস্কারের কাজ শেষ করেছেন। তীর্থের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে চন্দ্রনাথ ধাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি মেলার ধর্মীয় আয়োজন সম্পূর্ণ করেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারের মেলা নিরাপদ হবে এমন আশা করছেন তিনি।