কক্সবাজারে মানব পাচারবিরোধী শত কিলোমিটার রোড শো
কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানবপাচার বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিন এই উপকূল দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে গভীর সাগরে ট্রলারডুবিতে হতাহতের ঘটনা। কিন্তু কোনোভাবেই মানবপাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে মানবপাচার বন্ধে ও উপকূলের মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শত কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো।
‘সমুদ্রপথে বিদেশ না’ এই স্লোগান নিয়ে কক্সবাজারে নিরাপদ অভিবাসন ‘রোড শো’র আয়োজন করেছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। আজ শনিবার সকাল ১০টায় উখিয়া থেকে শুরু হয় মানব পাচারবিরোধী এই রোড শো। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবক, জেলে-কৃষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। আজ দুপুরে রোড শোটি টেকনাফ পৌঁছায়। বিকেলে সেখান থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে রাত আটটায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলীতে ১০০ কিলোমিটারের এই রোড শো শেষ হয়।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’-এর অধীনে চার দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে এই রোড শোর আয়োজন করা হয়। গতকাল ছিল কর্মসূচির শেষ দিন। এর আগে তিন দিন ধরে গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোড শোর অংশ হিসেবে উখিয়া, টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টের একাধিক পথসভায় মানব পাচারবিষয়ক কুইজ, প্রশ্নমালা রাখা হয়। চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
সকালে উখিয়ায় কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে এসআই পলাশ বড়ুয়া বলেন, লোভের বশবর্তী হয়ে সমুদ্রপথে বিদেশ যেতে গিয়ে কক্সবাজার এলাকার অনেকেই মানব পাচারের শিকার হচ্ছেন। এই পথে যেতে গিয়ে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় অনেকে মারা যাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন, তাঁদের পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে লোকজনকে সচেতন হতে হবে।
দালালদের প্রতারণা থেকে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার আতিকুর রহমান নাহিদ। তিনি বলেন, আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা নানা প্রলোভনে পাচারের শিকার হচ্ছেন। তিনি বিদেশগামীদের সঠিক তথ্য জেনে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকেরা জানান, চার দিনব্যাপী এই রোড শোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, সম্ভাব্য অভিবাসী, তরুণ সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।