নোয়াখালীতে ২ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল লুটের পর মালিককে ফেরত, যা জানা গেল

নোয়াখালীর সুধারাম থানাপ্রথম আলো

নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি ট্রলারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ২ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল কিনেছিলেন নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়ের বাসিন্দা মো. সিরাজ। গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় তাঁর কেনা ডিজেল নিয়ে আন্ডারচরের মাইজচরা গ্রামের চৌধুরী বাজারে একটি পিকআপ ভ্যান এসে পৌঁছালে দুর্ববৃত্তরা লুট করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে ট্রলার মালিক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগও করেছিলেন। তবে ওই নেতার মধ্যস্থতায় গতকাল বুধবার রাতে লুট হওয়া ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দামের ডিজেল ফেরত পেয়েছেন বলে জানান মো. সিরাজ।

জানতে চাইলে ট্রলারমালিক মো. সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, সাগরে মাছ ধরায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁদের পাঁচটি ট্রলার চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে স্থানান্তর করেন। এসব ট্রলারের জ্বালানির জন্য চট্টগ্রাম থেকে ২ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল কেনেন তিনি। ওই তেল নিয়ে আসার সময় দুর্বৃত্তরা পিকআপের চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়িসহ ডিজেল লুট করে নিয়ে যান। এর সঙ্গে বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, মো. সিরাজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ তেলের ব্যবসা করে আসছেন। বর্তমানে চলমান তেলের সংকটকে পুঁজি করে তিনি চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ উপায়ে তেল সংগ্রহ করে এলাকায় উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন। তিনি বিষয়টি জানার পর স্থানীয় চৌকিদারকে গাড়ি আটকাতে বলেছিলেন। তাঁরা আটকানোর আগেই এলাকার কিছু সন্ত্রাসী তেলসহ পিকআপ ভ্যান নিয়ে যায়। এরপর দলীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় তিনি তেল ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তেল লুটের ঘটনা জানার পর তাঁরা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তেলের মালিক বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কথা বলায় তাঁরা অভিযান চালাননি। পরে গতকাল রাতে ট্রলার মালিক লুট হওয়া তেল ফেরত পেয়েছেন বলে জানান। এরপরও এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। যারা তেল লুটের ঘটনায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।