এক মিনিটের মধ্যে ৫ লাখ টাকা উধাও, রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ারসহ চারজন থানায়
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রেস্তোরাঁয় নাশতা করতে গিয়ে এক ধান ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা–ভর্তি একটি ব্যাগ হারিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, নাশতা করে পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যে টাকার ব্যাগটি হোটেল থেকে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. লিটন হোসেন। বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুরে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় নাশতা করতে নামেন। তাঁর সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল।
লিটন হোসেন বলেন, নাশতা করার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখেছিলেন। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে হোটেলের ক্যাশিয়ারকে বিল দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে যান। এরপরই ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত রেস্তোরাঁয় ফিরে এসে দেখেন, চেয়ারে রাখা ব্যাগটি নেই। তখন ক্যাশিয়ারও ছিলেন না।
লিটন অভিযোগ করে বলেন, চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। তখন বাইরে থেকে কেউ রেস্তোরাঁয় ঢোকেননি। পরে তিনি রেস্তোরাঁর লোকজনের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, ‘আমার নাশতা খাওয়া আগে শেষ হলে রেস্তোরাঁর পাশে চায়ের দোকানে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পর লিটন এসে চায়ের অর্ডার করেন। আমি তাঁকে টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি দ্রুত রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই।’
খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ রেস্তোরাঁয় গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
রেস্তোরাঁর মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। তিনি ভাড়া নিয়ে রেস্তোরাঁটি চালান। সোলাইমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সাধারত খদ্দের কম থাকে। তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় হয়। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে রেস্তোরাঁয় ফিরে পুলিশ দেখতে পান। রেস্তোরাঁর কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও রেস্তোরাঁর বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি। সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই বলে তিনি জানান।
আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, পুলিশ রেস্তোরাঁয় গিয়ে সেখানকার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রেস্তোরাঁর মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তাঁরা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।