সকাল পৌনে ১০টার দিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীকের নেতৃত্বে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিএনপির পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। দুপুরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামানের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, ভাসানী অনুসারী পরিষদসহ নানা সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

শ্রদ্ধা জানানোর পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি ভালো না হয়, তাহলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা যে চিন্তা নিয়ে, যে ভালোবাসা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম; আজকে তার কিছুই নেই। মানুষের স্বাধীনতা এটাকে বলে না। শুধু কথা ও যা কিছু, তা বলতে পারাই স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতা হচ্ছে মানুষের মর্যাদাবোধ, মানবিকবোধসম্পন্ন ভালোবাসা। সবার কাছে আহ্বান জানাব, মানুষকে ভালোবাসতে ও সম্মান জানাতে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সরকার বিএনপির প্রতিটি সমাবেশ প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রতিহত করার নামে তারা যদি রাস্তায় নামে; যে ভাষায় তারা কথা বলবে, আমাদের জবাবটাও হবে সেই ভাষায়। সরকারের নিয়ত ঠিক নেই। চোরের মন পুলিশ পুলিশ, তাই আগে থেকে খারাপ কিছু ভাবনা মাথায় নিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এর আগে ছয়টি গণসমাবেশ করেছি। বিএনপি কী ধরনের সমাবেশ করবে—শান্তিপূর্ণ নাকি অশান্তিপূর্ণ, সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর যে সমাবেশ হবে, সেটা অন্যান্য সমাবেশের মতো বিস্ময়কর সমাবেশ হবে।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, দেশ ও বিদেশে একটিই দাবি বিএনপির, সেটা হলো বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন করা।

ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার পদে পদে আমাদের বাধা দিয়েছে, হামলা করেছে। যাদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তাদের নামেই আবার মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। প্রায় হরতালের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সরকার সর্বব্যাপী আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে। এভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবে না।’