মুন্সিগঞ্জে দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের নেতা–কর্মীদের হাতাহাতি
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বাজারের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের চার–পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকে সদর উপজেলা পরিষদে উপজেলার ছয়টি বাজারের ইজারার দরপত্র জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন ধলাগাঁও বাজারের দরপত্র জমা দিতে যান। সে সময় মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শিপলু সিকদার ও রামপাল ইউনিয়নের রোমান দেওয়ানের (স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত) পক্ষের বাবু নামের একজন ওই দরপত্র জমা দিতে বাধা দেন। এতে সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিনের অনুসারী তুষার আহমেদ বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। আমরা দরপত্র জমা দেওয়ার সময় শিপলু ও রোমানের পক্ষের কয়েকজন বাধা দেন। আমরা প্রতিবাদ করলে তাঁরা আমাদের ওপর হামলা চালান।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রোমান দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। উপজেলা পরিষদে কে বা কারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে, আমি জানি না। তবে আমরা চেয়েছিলাম, বিএনপির পক্ষের সবাই দরপত্র জমা দিক।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, কিছুটা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পরে নির্ধারিত সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে সবার দরপত্র জমা সম্পন্ন হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে হাতাহাতি থেমে যায়। আমাদের উপস্থিতিতে সব পক্ষ দরপত্র জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’