রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক নারী মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় অটোরিকশা নিয়ে এসে এক ব্যক্তি ওই নারীর ফোনটি কেড়ে নেন। ওই নারী চিৎকার শুরু করেন। এটি দেখেন এক শিক্ষক। তিনি তখন গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে বিভাগের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁর গাড়ি ওই ছিনতাইকারী রিকশাচালকের পিছু নেন। কয়েক কিলোমিটার পিছু নেওয়ার পর ওই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের সামনে আমবাগানে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে। আর ওই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয় ক্যাম্পাস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রাজশাহী নগরের ধরমপুর এলাকায়।
এই শিক্ষকের নাম নূর-এ-সাবিহা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। তিনি তাঁর চালক, পথচারী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ছিনতাইকারীকে ধরেন। আটক ছিনতাইকারীর নাম মো. অন্তর (২৫)। তিনি রাজশাহী নগরের শাহমখদুম থানাধীন বাগানপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। মুঠোফোন ছিনতাইয়ের শিকার ওই নারী রাজশাহী নগরের মতিহার শাখা সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
নূর-এ-সাবিহা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজের বিভাগের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একজন নারী কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনেন। তখন চালকও তাঁকে বললেন, ছিনতাই হয়েছে। পরে পরামর্শ করে তাঁরা ছিনতাইকারীর পিছু নেন। ছিনতাইকারী কাজলা গেট হয়ে অক্ট্রয় মোড়ে যান। তিনি গাড়ি থেকে তাঁকে থামতে বলেন। পরে ওই ছিনতাইকারী না থেমে এগিয়ে যান। পরে জানালা দিয়ে তিনি ও গাড়িচালক ডাক দিয়ে বলতে থাকেন, ‘সামনে একজন মোবাইল ছিনতাইকারী যাচ্ছেন। আপনারা ধরেন।’ এই ডাকে সাড়া দেন অনেক পথচারী। পরে ধরমপুর এলাকায় গিয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করেন ছিনতাইকারী। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরে তাঁকে ধরা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে প্রক্টর দপ্তরে আনা হয়।
ছিনতাইকারী পিছু নেওয়ার বিষয়ে নূর-এ-সাবিহা বলেন, এখন মুঠোফোন আসলেই অনেক কিছু। ব্যাংকিং খাতসহ আমাদের জীবনের বহু তথ্য-উপাত্ত মুঠোফোনেই থাকে। আর একজন নারীর প্রাইভেসিও নষ্ট হতে পারে—এই ধারণা নিয়ে তিনি এই কাজে অগ্রসর হন। এতে তাঁর গাড়িচালক সহযোগিতা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ভুক্তভোগীকে ফোনটি দেওয়া হয়েছে। থানায় ওই ছিনতাইকারীকে সোপর্দ করা হয়েছে।
নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। থানায় অভিযুক্তকে আটক করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।