পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনে অবস্থান ধর্মঘটে শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনেও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনেছবি: প্রথম আলো

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনেও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি অবস্থান নিয়ে সব কার্যক্রম স্থগিত করে উপাচার্যের অপসারণ এবং হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গত সোমবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। এ সময় উপাচার্যের ইন্ধনে প্রায় শতাধিক বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যের কাছ থেকে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই উপাচার্যের অপসারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পবিপ্রবির সব কার্যক্রম স্থগিত রেখে আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া পবিপ্রবির প্রক্টর আবুল বাশার খান বলেন, ‘সোমবার উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তিনিসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। উপাচার্যের কোনো আপত্তি বা আলোচনার বিষয় থাকলে তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতে। কিন্তু তা না করে বহিরাগতদের এনে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

প্রক্টর আবুল বাশার খান আরও বলেন, উপাচার্যের ইন্ধনে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মারধর করবে, আহত করবে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেবে, এটি মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই উপাচার্যের বিচার ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার পাশাপাশি আন্দোলন চলবে। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আগামী রোববার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রম চলবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুল বলেন, সোমবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে আজ চতুর্থ দিনেও শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদ্যোগে হওয়া আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।

পবিপ্রবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থী অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় দুমকী উপজেলা যুবদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফ ও তাঁর অনুসারীরা ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

অন্যদিকে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় দুমকী উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী এবং জেলা মহিলা দলের সদস্য হেলেনা খানমকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বহিষ্কার আদেশে বলা হয়েছে।